পাশে ঘুমন্ত ৬ বছরের মেয়ে, ঘরের ভেতর মায়ের গলাকাটা দেহ! স্ত্রীকে খুনের পর মেট্রোয় ঝাঁপ স্বামীর

মা-কে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, আর পাশেই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল মাত্র ছয় বছরের শিশুকন্যা। এমনই এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি। স্ত্রীকে খুনের পর অভিযুক্ত স্বামী বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনও শেষ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে কর্মরত দীপঙ্কর সরকার মাঝেমধ্যেই রিষড়ার বাড়িতে আসতেন। শুক্রবার রাতে তিনি বাড়ি ফেরেন। এরপর গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়, যার আওয়াজ প্রতিবেশীরাও শুনতে পান। ভোরে কোনো এক সময় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করার পর গলা কেটে খুন করেন দীপঙ্কর। এরপর তিনি গা ঢাকা দেন। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা মটকা মারলে ঘরে ঢুকে মণিকা সরকারের (৩২) গলাকাটা দেহ দেখতে পান। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, মায়ের নিথর দেহের পাশেই তখন ঘুমাচ্ছিল তাদের অবুঝ ছয় বছরের কন্যাসন্তান।
মেট্রো লাইনে শেষ পরিণতি ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দীপঙ্করের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়। পুলিশ যখন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে, তখনই জানা যায় বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি লাইনে ঝাঁপ দিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, অভিযুক্ত দীপঙ্কর সরকারই। সম্ভবত নিজের অপরাধবোধ অথবা ধরা পড়ার ভয়েই এই পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
পরকীয়া সন্দেহই কি কারণ? পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীপঙ্করের দৃঢ় সন্দেহ ছিল যে তার স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই সন্দেহের জেরেই ঠান্ডা মাথায় খুনের ছক কষেন স্বামী। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুরের ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রিষড়া থানায় বিএনএস (BNS)-এর ১০৩(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
একটি সুখী পরিবারের এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অবুঝ শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।