রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমাটি ঘিরে বিতর্কের আগুন নেভার নামই নিচ্ছে না। ছবিতে পাকিস্তানে গিয়ে যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়ার একটি দৃশ্য নিয়ে যখন উত্তাল ইসলামাবাদ, ঠিক তখনই ঘি ঢাললেন করাচির প্রখ্যাত রূপান্তরকামী সমাজকর্মী হিনা বালোচ। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সিংহভাগ মানুষই আসলে সমকামী, যা তাঁরা সমাজের ভয়ে আড়ালে রাখেন।
“পাকিস্তানে বিষমকামী কেউ নেই!”
লন্ডন নিবাসী গবেষক হিনা বালোচ একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সমকামী এবং বাকি ২০ শতাংশ উভকামী। হিনার মতে, “পাকিস্তানে কেউ বিষমকামী (Heterosexual) আছে বলে আমার মনে হয় না। এটা একটা ওপেন সিক্রেট। ধর্মীয় ও সামাজিক চাপে সবাই নিজের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে লুকিয়ে রাখে।” তিনি আরও জানান, সেখানে মানুষ নিজেদের পছন্দ স্বীকার করতে ভয় পায় বলেই তা বিকৃত উপায়ে বা অত্যাচারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
কেন এমন দাবি হিনার?
নিজেকে ‘খাওয়াজা সারা’ (তৃতীয় লিঙ্গ) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হিনা বালোচ জানান, শৈশব থেকেই তাঁকে নারীসুলভ পোশাক বা লিপস্টিক পরার জন্য সামাজিক গঞ্জনার শিকার হতে হয়েছে। তাঁর মতে:
পাক সমাজে সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করলেও পরিবারের ভয়ে তা প্রকাশ্যে আনা যায় না।
রূপান্তরকামীদের জোর করে ভিক্ষাবৃত্তি বা যৌন পেশায় ঠেলে দেওয়া হয়।
এই বাস্তবতাকে সমাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে রাখে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ধুরন্ধর ২’
সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমায় রণবীর সিংয়ের চরিত্র ‘হামজা আলি মাজহারি’ পাকিস্তানে পা রাখার পর প্রথম রাতেই যৌন নিগ্রহের চেষ্টার শিকার হন। পাক নেটিজেনদের দাবি, এই দৃশ্য তাঁদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। কিন্তু হিনা বালোচের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে এক ভিন্ন মাত্রা দিল।
কে এই হিনা বালোচ?
করাচিতে জন্ম নেওয়া হিনা বর্তমানে লন্ডনের বাসিন্দা। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের (SOAS) জেন্ডার স্টাডিজের মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার প্রাইড ‘সিন্ধ মুরত মার্চ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মত
যদিও হিনার এই ‘৮০ শতাংশ’ দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক বা পরিসংখ্যানগত ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অভিমত। তবে রক্ষণশীল পাকিস্তানে LGBTQ+ অধিকার নিয়ে যে লড়াই চলছে, এই মন্তব্য তাতে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে।





