“যারা এসব বলছে, তারা….?”,-আদ্যাপীঠ মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী জানাল কর্তৃপক্ষ?

গত কয়েক ঘণ্টা ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল— কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনের জেরে নাকি বন্ধ হতে চলেছে ঐতিহাসিক আদ্যাপীঠ মন্দির। শুক্রবার দুপুরে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং পুরপ্রধান গোপাল সাহার এক সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে এই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়। কিন্তু আদ্যাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ সরাসরি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
“১১২ বছরের ঐতিহ্য থামবে না”
মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই জল্পনা খারিজ করেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “কেন বন্ধ হবে আদ্যাপীঠ? যারা এই ধরনের কথা ছড়াচ্ছে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। শ্রীরামকৃষ্ণের স্বপ্নাদেশে তৈরি এই মন্দির ১১২ বছর ধরে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।” তাঁরা আরও যোগ করেন, এটি ঠাকুরের এক অসমাপ্ত কর্মযজ্ঞ, যা কোনো রাজনৈতিক টালবাহানায় বন্ধ হওয়ার নয়।
সেবামূলক কাজে কোনো বাধা নেই
আদ্যাপীঠ শুধুমাত্র একটি মন্দির নয়, এটি একটি বিশাল সেবা প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
এখানে বর্তমানে ২৫০০ জন আবাসিক থাকেন।
রয়েছে অনাথালয় এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ব্রহ্মচর্য আশ্রম।
অসহায় ও নিঃস্বদের জন্য এটি একটি বড় আশ্রয়স্থল।
চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি ও ওপিডি পরিষেবার মাধ্যমে হাজার হাজার গরিব মানুষ চিকিৎসা পান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কোনোভাবেই থমকে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
আদ্যাপীঠের বর্তমান সম্পাদক মুরাল ভাইয়ের কাছে সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই আসেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আদ্যাপীঠ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয় এবং কোনো দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা মাথা ঘামায় না। দল-মত নির্বিশেষে মানুষ এখানে আসেন এবং দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনাই আদ্যাপীঠের একমাত্র লক্ষ্য।
কী বলছেন কামারহাটির পুরপ্রধান?
এই বিষয়ে কামারহাটি পৌরসভার পুরপ্রধান গোপাল সাহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না, যা বলার মন্দির কর্তৃপক্ষই জানাবে।” অর্থাৎ, আদ্যাপীঠ বন্ধ হওয়া নিয়ে যে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা মন্দির কর্তৃপক্ষের বয়ানে কার্যত কেটে গেল। ভক্তদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলেই জানা যাচ্ছে।