‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বললেই খড়্গহস্ত ভারত! নিউ ইয়র্ক টাইমসকে কড়া বার্তা দিল্লির

স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার পুরোপুরি উত্তাল হয়ে উঠল পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু নাগরিক। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামাবাদ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, এই সম্পূর্ণ সংবেদনশীল ঘটনাটি প্রকাশের সময় ভুল এবং বিভ্রান্তিকর শব্দ ব্যবহারের জেরে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ (The New York Times)-কে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা ও আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

সাম্প্রতিক এই অশান্তি ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন এই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল— “Clashes Erupt in Pakistani Kashmir as Voting in Local Election Begins”। এই নির্দিষ্ট শিরোনামটিতে ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েই মূলত তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ একটি কড়া পোস্ট করে দূতাবাস অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের শিরোনাম সম্পূর্ণ ভুল, অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর। মানচিত্রে এমন কোনো স্বাধীন বা পৃথক অস্তিত্বসম্পন্ন ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলে জায়গা নেই, পৃথিবীর মানচিত্রে একমাত্র রয়েছে অবৈধ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বা PoK।

ওই পোস্টে অত্যন্ত জোরালোভাবে আরও বলা হয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি অতীতেও ভারতের সার্বভৌম ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং আগামী ভবিষ্যতেও ভারতের সঙ্গেই থাকবে। পাকিস্তান জোরপূর্বক এবং সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে এবং বর্তমানে সেখানকার নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর চরম নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য খবর অনুযায়ী, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। মূলত আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচ, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাপক প্রশাসনিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক বৈষম্য এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়নের প্রতিবাদেই এই বড়ো ধরনের গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল। রাওয়ালকোট থেকে মুজফ্ফরাবাদ পর্যন্ত আয়োজিত এই লংমার্চ ও জনসমুদ্রে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত পুলিশি ও সেনা দমনপীড়নে ইতিমধ্যেই ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই প্রহসনের নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদের অবৈধ দখলদারি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে ভারত। এদিকে, এই বেআইনি হত্যাকাণ্ডের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচারে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করা এবং দোষী জওয়ানদের কঠোর শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UNHRC)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছে JAAC। সামগ্রিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বর্তমানে রাওয়ালকোট ও মুজফ্ফরাবাদ-সহ সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ও কড়া নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।