চোখ রাঙাচ্ছে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধস! দিল্লি থেকে বিহার—কোথায় কেমন দুর্যোগ জানুন এক ক্লিকে

দেশজুড়ে বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ২২টি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। আগামী ৩ থেকে ৪ দিন উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতে মৌসুমী বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিদর্ভ, গুজরাট, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লাগাতার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ৩০ জুলাই ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র বজ্রঝড়ের জেরে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আকাশে ঘন মেঘের পাশাপাশি বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ঝলকানির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পহেলা আগস্টও একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

অন্যদিকে, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাজস্থানের আবহাওয়াও অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম রাজস্থানের বহু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। ৩০ এবং ৩১ জুলাই পশ্চিম উত্তর প্রদেশের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মুজাফফরনগর, শামলি, সাহারানপুর, বিজনোর, বাগপত, গাজিয়াবাদ, গৌতম বুদ্ধ নগর, হাপুর, বুলন্দশহর, আলিগড়, মথুরা, আগ্রা, মোরাদাবাদ, রামপুর, আমরোহা, সম্বল এবং বেরেলিতে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী লখনউ, সীতাপুর, বারাবাঙ্কি, অযোধ্যা, গোন্ডা, বাহরাইচ, শ্রাবস্তী, বলরামপুর, বাস্তি, গোরখপুর, দেওরিয়া, কুশিনগর, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, মির্জাপুর এবং সোনভদ্রে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিহারেও আবহাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিহারের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং বজ্রপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডে অবিরাম বর্ষণ ও ভূমিধসের জেরে চারধাম যাত্রা সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন আপাতত চারধাম যাত্রা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty