পাওয়ার করিডোরে এবার শুভেন্দুর টিম! কার হাতে নবান্নের চাবিকাঠি? দিলীপ-অগ্নিমিত্রাদের দপ্তরে বড় চমক

বাংলায় ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক রাশ আরও শক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভার প্রথম দফার দপ্তর বণ্টন সেরে ফেললেন তিনি। সোমবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম দফায় শপথ নেওয়া ৫ হেভিওয়েট মন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

পাওয়ার করিডোরে কে কোথায়? রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখেই মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তালিকায় সবথেকে বড় নজর ছিল দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালের ওপর। এক নজরে দেখে নিন কোন মন্ত্রীর হাতে এল কোন দপ্তরের ভার:

  • শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী): স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের মূল রাশ সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাঁর লক্ষ্য।

  • দিলীপ ঘোষ: মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতাকে দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও আবাসন দপ্তরের দায়িত্ব। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় নবান্ন।

  • অগ্নিমিত্রা পাল: নারী সুরক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তাঁকে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গের এই তরুণ তুর্কিকে দেওয়া হয়েছে বন ও আদিবাসী কল্যাণ দপ্তর। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

  • অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু: এই দুই নেতার কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে মৎস্য ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের গুরুদায়িত্ব।

সুশাসনের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টনের পরেই নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, স্রেফ দপ্তর দখল নয়, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হবে দ্রুত। বিশেষ করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পরবর্তী সম্প্রসারণের ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫ জনকে নিয়ে দপ্তর বণ্টন আসলে এক বড় লড়াইয়ের শুরু মাত্র। খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় দফার সম্প্রসারণ হতে পারে। সেখানে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের আরও বেশ কিছু নতুন মুখ জায়গা পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালদের এই নতুন ভূমিকা কি বাংলার প্রশাসনিক জট কাটাতে পারবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্টে জানান। খবরের প্রতি মুহূর্তের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy