রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে একের পর এক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় বীরভূমের বহুচর্চিত বালি ও কয়লা মাফিয়া রাজ। সোমবার নবান্নে জেলাশাসকদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে বীরভূমের জেলাশাসককে (DM) কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, লালমাটির জেলায় কোনোভাবেই আর অবৈধ বালি বা কয়লা খাদান চলতে দেওয়া হবে না।
মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য খতম করার নির্দেশ বৈঠক সূত্রে খবর, বীরভূমের বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা এবং কয়লা খনিগুলোতে বেআইনি খনন নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “কার মদতে এই কাজ চলছে, তা আমার কাছে স্পষ্ট। অবিলম্বে জেলার সমস্ত অবৈধ বালি ঘাট এবং কয়লা খাদান বন্ধ করতে হবে। কোনো নেতা বা প্রভাবশালীর দাপট যেন প্রশাসনকে কাজ করা থেকে আটকাতে না পারে।”
গরু পাচার নিয়ে জিরো টলারেন্স স্রেফ খনিজ সম্পদই নয়, বীরভূম সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারের অভিযোগ নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বীরভূমকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে কোনো ধরণের পাচারচক্র চালানো যাবে না। পুলিশ ও প্রশাসনকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “গরু পাচারের একটি অভিযোগও যেন ভবিষ্যতে না আসে। যদি প্রশাসনের কারো গাফিলতি পাওয়া যায়, তবে ব্যবস্থা নিতে আমি দ্বিতীয়বার ভাবব না।”
প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর এই রুদ্রমূর্তি দেখে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অবৈধ কারবার রুখতে জেলা স্তরে একাধিক আধিকারিককে বদল করা হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘সুশাসন’ বা গুড গভর্ন্যান্সের মডেলে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের স্থান দিতে নারাজ।
আগামী লক্ষ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমে বিরোধী দুর্গে ফাটল ধরাতে এবং মাফিয়া রাজের অবসান ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন। জনগণের সম্পত্তি লুঠ করে যারা পকেট ভরাচ্ছে, তাঁদের জেলে ঢোকানোই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।
শুভেন্দুর এই কড়া পদক্ষেপে কি বীরভূমের অবৈধ ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হবে? সাধারণ মানুষ কি মাফিয়াদের হাত থেকে মুক্তি পাবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্টে জানান। রাজ্যের প্রতিটি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।





