টলিউডের শিল্পীদের বৃহত্তম সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম’-এর অন্দরে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। সংগঠনের নির্বাচন মিটে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে তাঁর এই হঠাৎ সরে দাঁড়ানো নিয়ে এখন স্টুডিও পাড়ায় কানাঘুষো তুঙ্গে। তবে ইস্তফা এখন দিলেও, বিষয়টি যে কয়েক মাস আগের— তা নিজেই খোলসা করেছেন অভিনেতা।
গোপন রাখা হয়েছিল ইস্তফাপত্র? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিগন্ত বাগচী জানিয়েছেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন নির্বাচনের এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন তিনি?
কেন এই বিচ্ছেদ? ইস্তফার কারণ নিয়ে দিগন্ত সরাসরি কারো দিকে আঙুল না তুললেও, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে সংগঠনের কাজের পরিবেশ বা ব্যক্তিগত কোনো সমীকরণ তাঁর অনুকূলে ছিল না। অভিনেতা জানিয়েছেন, ফোরামের কোনো বিশেষ বিষয়ের সঙ্গে হয়তো তিনি একমত হতে পারছিলেন না, যার ফলে তিনি সসম্মানে পদ থেকে সরে আসাই শ্রেয় মনে করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চেয়েছিলাম পদত্যাগের মাধ্যমেই দায়মুক্ত হতে।”
ফোরামের অন্দরে গুঞ্জন আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচনে বরাবরের মতোই ছিল তারকাদের আধিক্য। সেই নির্বাচনে জিতে এসেও কেন দিগন্ত বাগচী সহকারী কোষাধ্যক্ষের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে ফোরামের বাকি সদস্যদের মধ্যেও। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
পেশাদারিত্ব নাকি অভিমান? টলিউড মহলের একাংশের মতে, দিগন্ত বাগচী অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন মানুষ। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই তাঁর ইস্তফা দেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংগঠনের পরিচালন সমিতির অন্দরে হয়তো কোনো চাপা অসন্তোষ কাজ করছে। তবে দিগন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি পদ ছাড়লেও সংগঠনের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করে যাবেন।
ইস্তফা নিয়ে দিগন্তের এই চাঞ্চল্যকর বয়ান কি আর্টিস্ট ফোরামের নতুন কমিটির ওপর চাপ বাড়াবে? টলিউডের পর্দার পেছনের এমন আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।





