সম্পর্কের পবিত্রতা ছাপিয়ে এবার চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল রাজ্য। সামান্য পারিবারিক বিবাদ না কি সম্পত্তির লোভ— নেপথ্যে কারণ যা-ই হোক না কেন, নিজের শ্বশুরমশাইকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানোর অভিযোগ উঠল খোদ জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যার রূপ দিতে মৃতদেহের মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার মতো হাড়হিম করা ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযুক্ত। পুলিশের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই এই রহস্যজনক খুনের কিনারা সম্ভব হয়েছে।
পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড পুলিশ সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই শ্বশুর ও জামাইয়ের মধ্যে তিক্ততা চরমে পৌঁছেছিল। অভিযোগ, শ্বশুরমশাইকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে আগেভাগেই ছক কষেছিলেন অভিযুক্ত জামাই। এর জন্য কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি বা সুপারি কিলারের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে ওই বৃদ্ধের ওপর হামলা চালায় আততায়ীরা। শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
প্রমাণ লোপাটে বিষের কারসাজি তবে ঘটনাটিকে নিছক খুন হিসেবে না দেখিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জামাই। খুনের পর মৃতদেহের মুখ দিয়ে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই— পুলিশ ও প্রতিবেশীরা যেন মনে করেন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই বৃদ্ধ। কিন্তু অপরাধ করে যে পার পাওয়া যায় না, তা ফের প্রমাণিত হলো।
তদন্তে ধরা পড়ল অসঙ্গতি প্রাথমিকভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হলেও, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ দানা বাঁধে। বৃদ্ধের গলায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং শরীরে আঘাতের দাগ দেখে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এটি আত্মহত্যা নয়। এরপরই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই জামাইয়ের কথায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। কড়া জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ কবুল করেন তিনি।
পুলিশি তৎপরতা ইতিমধ্যেই ঘাতক জামাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেই সুপারি কিলারদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো বড় কারণ বা পরিবারের অন্য কেউ যুক্ত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পারিবারিক সম্পর্কের এমন নক্কোরজনক পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আপনার আশেপাশেও কি এমন কোনো অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করছেন? সতর্ক থাকুন। অপরাধ জগতের এমন আরও চাঞ্চল্যকর খবরের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।





