পরীক্ষায় কারচুপি থেকে সিআইডি-র জালে ২০ অভিযুক্ত! ঝাড়খণ্ডের এই মহাআন্দোলনে ব্যাকফুটে হেমন্ত সোরেন সরকার

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ছাত্রসমাজের আন্দোলন এক তীব্র গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। গত ৫ জুলাই চতুর্দশ জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার্থীরা ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। টানা ১২ দিন ধরে শত শত চাকরিপ্রার্থী খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও, ছাত্ররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো ধরনের গোপন বৈঠক বা চার দেয়ালের ভেতরের আলোচনা তারা মানবেন না। সরকারের সাথে যেকোনো সংলাপ সম্পূর্ণভাবে সংবাদমাধ্যম এবং ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্য জনসমক্ষে হতে হবে, যাতে সমগ্র রাজ্যের মানুষ আলোচনার প্রতিটি মুহূর্ত ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে।

এদিকে, সিআইডি এই কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য অর্জন করেছে। পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা টিডিপিলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে পরীক্ষার সিস্টেম নিয়ে এত দুর্নীতি, সেই চতুর্দশ জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অভিযুক্ত রক্ষক সিং নিজেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন! এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা বর্তমানে সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড, লগইন তথ্য এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে, ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার বার্তা এলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আমরণ অনশন এক ইঞ্চিও শিথিল হবে না।

এই তীব্র ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপও চরমে উঠেছে। ঝাড়খণ্ডের চাকরিপ্রার্থীদের এই লড়াইকে সমর্থন জানাতে এগিয়ে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা করেছেন যে তাদের মূল টিম খুব শীঘ্রই রাঁচিতে পৌঁছে আন্দোলনে শামিল হওয়া পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকারি জবাবদিহির অভাব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ডের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী প্রশ্ন তুলেছেন যে, কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকারের আমলে ছাত্ররা যখন রাস্তায় বসে অনশন করছেন, তখন রাহুল গান্ধী কেন মুখ খুলছেন না। এর বিপরীতে কংগ্রেসের মন্ত্রী ইরফান আনসারি বিজেপির সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায় কমিটি গড়ে আলোচনার রাস্তা প্রশস্ত করেছেন এবং ছাত্রদের দাবিগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।