প্রথমবার বিমানে চড়ার স্বপ্নপূরণ! অবন্তিকাকে সঙ্গে নিয়ে দুস্থ শিশুদের জন্য যা করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শুনলে চোখ জুড়িয়ে যাবে

সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউব জগতের জনপ্রিয় মুখ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌরভ জোশী সম্প্রতি এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ফের খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। সমাজের মূলস্রোত থেকে কিছুটা দূরে থাকা একদল সুবিধাবঞ্চিত স্কুলছাত্রছাত্রীর জন্য তিনি আস্ত একটি যাত্রীবাহী বিমান বুক করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সৌরভ এবং তাঁর স্ত্রী অবন্তিকা যৌথভাবে একটি বিশেষ ইউটিউব ভ্লগের মাধ্যমে এই গোটা ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যা ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে এবং নেটিজেনদের চোখে জল এনে দিয়েছে।
ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায়, উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানিপন্থগরের এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে আনন্দিত বাচ্চারা একটি বিশেষ বাসে করে সটান সৌরভের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বাচ্চাদের এই আকাশছোঁয়া আনন্দ এবং চোখেমুখে লেগে থাকা বিস্ময়ের অভিব্যক্তি দেখে যে কারও মন গলে যাবে। সৌরভ নিজেই ভিডিওতে জানান যে, এই বিশেষ শিশুগুলোর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি ইন্ডিগোর একটি সম্পূর্ণ ফ্লাইট রিজার্ভ করে ফেলেছেন। প্লেনের সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বাচ্চাদের চোখেমুখে যে উচ্ছ্বাস ও ভয়মিশ্রিত কৌতূহল দেখা গিয়েছিল, তা ছিল সত্যিই অবিস্মরণীয়। অনেক শিশুই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে তারা বাস্তবে কোনো বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেছে।
যাত্রার আগের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে অবন্তিকা তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত শেয়ার করেন। তিনি জানান, বিমানবন্দর অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে তাঁরা ঐতিহ্য মেনে স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ নেন। এরপর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সমস্ত খুদের হাতে নিজস্ব বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও এই বিশেষ অতিথিদের জন্য এক দারুণ অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়েছিল।
যেহেতু এই শিশুগুলির জীবনে এই প্রথমবার বিমানে ওড়ার অভিজ্ঞতা হচ্ছিল, তাই টেকঅফের ঠিক আগের মুহূর্তে কিছুটা ভয় এবং উদ্বেগের ছাপ ছিল তাদের ছোট্ট মুখগুলোতে। বাচ্চাদের সেই সমস্ত ভীতি দূর করতে এবং তাদের পুরো ভ্রমণটিকে উপভোগ্য করে তুলতে সৌরভ ও অবন্তিকা নিরন্তর তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সাহস জোগান। একইভাবে, প্লেন অবতরণের সময়ও বেশ কয়েকজন শিশু কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল, কিন্তু এই দম্পতি অভিভাবকের মতো তাদের পাশে শক্তপোক্তভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণের পর, সমস্ত শিশুদের একটি বিলাসবহুল বাসে করে একটি নামী রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা সবাই মিলে একপ্রস্থ জমজমাট ডিনার উপভোগ করে। রাতের আহারের পর তাদের বিনোদনের জন্য একটি জনপ্রিয় গেমিং আর্কেডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিৎজা খাওয়ার পাশাপাশি হইহুল্লোড়, বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেম খেলা এবং আনন্দ করার মধ্য দিয়ে দারুণ একটি সন্ধ্যা কাটে তাদের। দীর্ঘ ও ক্লান্তিভরা একটি স্মরণীয় দিন কাটানোর পর গভীর রাতে বাচ্চারা পুনরায় বাসে করে হালদোয়ানিপন্থগরের উদ্দেশে রওনা দেয়। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত শিশুকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব সম্পন্ন করেন সৌরভ ও অবন্তিকা। এরপর ভোর চারটে নাগাদ তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মানবিক উদ্যোগের ভিডিওটি প্রকাশ পেতেই তা মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বত্র প্রশংসার জোয়ার বয়ে যায়। একজন অনুরাগী কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “এই কাজটিতে প্রচুর ভালোবাসা আর আন্তরিকতা রয়েছে! বাচ্চাদের মুখের ওই নির্মল হাসি দেখলে যে কারও মন ভালো হয়ে যাবে।” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “বহুত খুশি হুয়ি, আপনারা খুব সুন্দর একটি ভালো কাজ করেছেন।” এককথায়, সাদামাটা জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে আসা এই শিশুদের কাছে এই বিশেষ বিমান ভ্রমণটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ট্রিপ ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছে সারাজীবনের এক অমূল্য ও সুমিষ্ট স্মৃতি।