‘সৎ সাহস থাকলে বেরিয়ে আসুন!’ দলত্যাগী সাংসদদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে আর কী বললেন নওশাদ সিদ্দিকী?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শাসকদলের অন্দরের তীব্র ভাঙন এবং একাধিক সাংসদের দলত্যাগ। ঠিক এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর এই সরাসরি হুঙ্কার ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং জাতীয় স্তরে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। এই দলত্যাগী সাংসদদের প্রথম সারিতে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান সহ একাধিক হেভিওয়েট মুখ। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এই সাংসদদের প্রথম সারিতে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। আর এই ঘটনার পরই কড়া ভাষায় তাদের সমালোচনা করেন নওশাদ।
এদিন প্রকাশ্যে এক সাক্ষাৎকারে নওশাদ সিদ্দিকী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যেসব বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে, তাঁরা কি বিজেপির হয়ে লড়বেন নাকি এনসিপিআই-এর টিকিটে দাঁড়াবেন? আমি অন ক্যামেরা বলছি, রেকর্ড করে রাখুন। যদি মমতার ছবি বা বিজেপির লোগো ছাড়া ওঁরা ভোটে দাঁড়ান, তবে এনসিপিআইতে যাওয়া সেই সমস্ত সাংসদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া নিশ্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি ছাড়া এরা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে না।”
বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ করে আইএসএফ বিধায়ক আরও বলেন, “মানুষকে কি আপনারা শিশু পেয়েছেন নাকি? আপনারা এনসিপিআই-এর নামে আদতে এনডিএ-র অংশ হয়েছেন। সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো বন্ধ করুন। যদি আপনাদের এতই সৎ সাহস থাকে, তবে এনসিপিআই থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করুন। তবেই আপনাদের আসল রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হবে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাম্প্রতিক ভাঙন প্রসঙ্গে আক্রমণ শানিয়ে নওশাদ বলেন, এতদিন দলের ভাঁড়ারে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার মধু ছিল বলেই সবাই সেখানে ভিড় জমিয়েছিল। এখন সেই ক্ষমতার মধু ফুরিয়ে আসতেই তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে স্বার্থের লড়াই। যদিও তিনি নিজে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়ে বলেন যে গত ১৫ বছর ধরে চলা ক্ষমতার একচেটিয়া আধিপত্য ও দুর্নীতির ফলই আজ তৃণমূলের এই পরিণতি ডেকে এনেছে।