পরকীয়া গোপন করতে স্বামীর প্রাণ নিলেন স্ত্রী! ৫ বছরের শিশুর বয়ানে ফাঁস ভয়াবহ খুনের রহস্য

উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার হিমপুর দীপা থানা এলাকার নাইপুরা গ্রামের ঘটনা। একটি খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই নৃশংস খুনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল খোদ দম্পতির ৫ বছরের শিশু সন্তান। তার বয়ানেই ফাঁস হয়েছে এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য।

মৃত ব্যক্তির নাম কুঁয়ারসেন (২৬)। তিনি পেশায় একজন কৃষক ও শ্রমিক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, কুঁয়ারসেন তাঁর স্ত্রী কামেন্দ্রীর চরিত্র নিয়ে বহুদিন ধরেই সন্দেহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী কামেন্দ্রী তাঁর নিজের ভাগ্নে গৌতমের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি ও কলহ হতো। ঘটনার দিন সকালেও তাঁদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, বুধবার রাতে কাজ থেকে ফেরার পর আবারও দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এরপর কুঁয়ারসেন নিজের খাটে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে যখন কুঁয়ারসেন ঘুমে আচ্ছন্ন, সেই সুযোগে কামেন্দ্রী প্রথমে একটি লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথা ও পায়ে সজোরে আঘাত করে। এরপর নিস্তেজ স্বামীর মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

খুনের পর অভিযুক্ত স্ত্রী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে গ্রামবাসীদের জানান যে, হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতায় তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে কামেন্দ্রী বারবার অজ্ঞান হওয়ার ভান করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেয় কুঁয়ারসেনের ৫ বছরের শিশু সন্তান হিমাংশু। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশকে সটান বলে দেয়, “মা বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে।”

শিশুর এই বয়ানের পরেই পুলিশ তৎক্ষণাৎ লাশের মাথা ও পায়ে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলো পরীক্ষা করে। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত কামেন্দ্রিকে হেফাজতে নেয়। চাঁদপুরের সার্কেল অফিসার (সিও) দেশ দীপক সিং জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে শিশুটির বয়ানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে খুনের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রেমঘটিত সম্পর্কের পাশাপাশি আর কোনো নেপথ্য কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই জঘন্য কাণ্ডে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।