পরকীয়ার সন্দেহে করাত দিয়ে নৃশংস খুন! স্ত্রী-পুত্রকে হত্যার পর নিজেকে শেষ করলেন স্বামী, বেলডাঙায় চরম মর্মান্তিক ঘটনা

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে চরম আক্রোশে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার আন্ডিরণ গ্রামে। বুধবার স্বামী তাঁর স্ত্রী ও নাবালক পুত্রকে করাত দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিহতরা হলেন স্ত্রী মৌসুমি হালদার (২৮), পুত্র রায়ানের (৭) এবং স্বামী সনজিৎ হালদার (৩২)। বেলডাঙা থানার পুলিশ দেহ তিনটি উদ্ধার করে বহরমপুর মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নৃশংস খুনের নেপথ্যে কী কারণ?
পেশায় প্যান্ডেল শ্রমিক সনজিৎ হালদার ঠিক কী কারণে স্ত্রী-পুত্রকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করলেন, সে বিষয়ে পরিবার বা নিকটাত্মীয়রা কিছুই স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি। তবে পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং তা নিয়ে দাম্পত্য কলহই এই নৃশংস ঘটনার মূল কারণ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হালদার দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হত। দুর্গাপূজার সময় সনজিৎ প্যান্ডেল তৈরির কাজে রাতে ব্যস্ত থাকায়, এই সন্দেহ আরও বাড়ে।
জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, “স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করার পরই সনজিৎ হালদার গলায় ফাঁস দিয়ে নিজেকে শেষ করেছেন। তবে খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নাবালক পুত্রকে খুনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে নাবালক পুত্র রায়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। দাম্পত্য কলহ বা পরকীয়ার আক্রোশে স্ত্রীকে খুন করা হলেও, কেন নাবালক ছেলেকে করাত দিয়ে খুন করা হলো?
প্রতিবেশীরা মনে করছেন, স্ত্রী’কে খুন করার পর নাবালক রায়ানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সনজিৎ তাকেও শেষ করে দেন। স্থানীয় নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য জানান, সনজিৎ দরিদ্র হলেও তাঁদের সংসার সুখেই চলছিল, কিন্তু কী কারণে এমন চরম পদক্ষেপ নিলেন, তা বোধগম্য নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারাই এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর বেলডাঙা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এই নৃশংস ঘটনায় আন্ডিরণ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।