পরকীয়ার ‘শাস্তি’! মহিলা ও তাঁর সঙ্গীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে গ্রামে ঘোরানোর ঘটনায় তোলপাড়

মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি জেলায় এক অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বর্বরোচিত ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশবাসী। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে এক মহিলা ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে দড়ি দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে পুরো গ্রামে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অমানবিক ও অবমাননাকর ঘটনার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত ওই মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই হাত শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে এবং তাঁদের একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এরপর উন্মত্ত একদল লোক তাঁদের সেই অবস্থায় জোর করে গ্রামের মেঠো রাস্তা দিয়ে হাঁটাতে বাধ্য করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একটি অমানবিক ঘটনা চোখের সামনে ঘটে চললেও আশপাশের কেউ প্রতিবাদ করার সামান্য সাহসটুকুও দেখাননি। উল্টে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিওপি) মহেশ সুনাইয়া জানান, গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে ঠিকরি থানা এলাকার একটি নির্দিষ্ট গ্রামে এক মহিলা ও এক পুরুষকে অমানবিক কায়দায় আটকে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দু’জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলে ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
উদ্ধার হওয়া মহিলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর তিন জন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, শারীরিক নিগ্রহ, নারীর শালীনতা হানির চেষ্টা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক সংবেদনশীল ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত তিনজনই পলাতক রয়েছে এবং তাদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে নৈতিকতার নামে এই ধরনের মধ্যযুগীয় নিগ্রহ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরকীয়া কিংবা পরিবারের অমতে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়ানোর অজুহাতে এমন অমানবিক নির্যাতনের বহু চিত্র সামনে এসেছে। প্রশাসন, আদালত এবং মনোবিদরা এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি নিয়ে বরাবরই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। সমাজবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশের জোরালো দাবি, সাধারণ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন এবং জোরালো সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই ধরনের পাশবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কোনোদিনই সম্ভব হবে না।