হঠাৎ বন্ধ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট! বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কপালে চিন্তার ভাঁজ, মুখ খুলল মেটা

সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই থমকে গেল কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। কোনো রকম পূর্ব সতর্কতা বা নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করেই ভারত-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তের বহু ব্যবহারকারী দেখতে পান যে তাঁদের অ্যাকাউন্টগুলি হঠাৎ করেই ‘আন্ডার রিভিউ’ বা পর্যালোচনাধীন অবস্থায় চলে গেছে। অ্যাপ খুলতেই দেখা যায় একটি বিশেষ বার্তা, যেখানে বলা হয়েছে যে কোম্পানির পরিষেবার শর্তাবলী খতিয়ে দেখার জন্য অ্যাকাউন্ট লক করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই নজিরবিহীন বিভ্রাটের মুখে পড়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের ঝড় ওঠে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অবশেষে মুখ খুলেছে হোয়াটসঅ্যাপের মূল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মেটা। সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধ করতে এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে তাঁরা সবসময় অ্যালগরিদম ও বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালিয়ে থাকেন। সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে নিয়ম অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করা হয়। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে স্পষ্ট স্বীকার করা হয়েছে যে, অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভুলবশত বৈধ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টও এই প্রক্রিয়ার আওতায় চলে আসে। তবে সংস্থা আশ্বাস দিয়েছে যে, এ ধরনের ভুল চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তা সংশোধন করে ব্যবহারকারীদের ফের চ্যাটে ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যদিও মেটার পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট গোলযোগের পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ যেমন—প্রযুক্তিগত কোনো বড় ত্রুটি, অভ্যন্তরীণ সার্ভার সমস্যা কিংবা এআই সিস্টেমের গোলযোগ—সম্পর্কে বিশদে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি ঠিক কত সংখ্যক ব্যবহারকারী এই আকস্মিক সমস্যার মুখে পড়েছেন, সেই সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার রাত প্রায় আটটা থেকে এই বিপত্তি বড় আকারে সামনে আসতে শুরু করে। বহু ব্যবহারকারী টুইটার সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে এবং আপিল করার পর কেবল ২৪ ঘণ্টার অপেক্ষা করার গতানুগতিক বার্তাটিই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে।
উল্লেখ্য, হোয়াটসঅ্যাপ নিয়মিতভাবে স্প্যামিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন মেনে প্রতি মাসে লক্ষাধিক ভারতীয় অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে থাকে। কিন্তু সোমবারের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী, কারণ এখানে সরাসরি অ্যাকাউন্ট পাকাপাকিভাবে বন্ধ না করে একসাথে বিশাল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট রিভিউয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, এটি কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিং সিস্টেমের টেকনিক্যাল গ্লিচ বা কোডিং ত্রুটির ফল। মেটা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও, এই ঘটনায় ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ফের একবার বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।