পদ থাকবে কি? সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড়, জরুরি বৈঠকে শোভনদেব

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদের জন্য জমা দেওয়া চিঠিতে সই জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে জল্পনার জন্ম দিল। আজ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “অন্যের সই করা অন্যায়। আমি অন্যায়কে সমর্থন করি না। তাতে আমি বিরোধী দলনেতা থাকি বা না থাকি।”

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? তৃণমূলের অন্দরের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের সই জালিয়াতির বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ, বিধায়কদের অজান্তেই অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সই নকল করে গুরুত্বপূর্ণ নথিতে বসানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮এ (8A) ধারা মোতাবেক এই ধরণের সই জালিয়াতি প্রমাণিত হলে বিধায়ক পদ খারিজ পর্যন্ত হতে পারে। বিষয়টি এখন সিআইডি-র (CID) নজরদারিতে রয়েছে।

জরুরি বৈঠকে শোভনদেব: সই কাণ্ডের জেরে আজ দুপুরে বিধায়কদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতারা। সই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে দলের অন্দরে যে অস্বস্তি দানা বেঁধেছে, তা এই বৈঠকের মাধ্যমেই প্রশমিত করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: শোভনদেববাবু জালিয়াতির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও, তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই ‘পরোক্ষে স্বীকারোক্তি’ হিসেবে দেখছেন। তবে পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধানসভায় ‘অতি সক্রিয়তা’ দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জন বিধায়ক থাকলেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব।

সই জালিয়াতির এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় রূপ নেয় কি না, অথবা তৃণমূলের এই নতুন বিরোধী দলনেতার পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy