ভিসা ছিল পর্যটনের, উদ্দেশ্য ছিল ভয়ংকর! কলকাতার বুকে থাই সুন্দরীদের মাদক পাচারের জাল গুঁড়িয়ে দিল এসটিএফ!

পর্যটন ভিসার আড়ালে সুদূর থাইল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে কোটি টাকার মাদক পাচারের অভিযোগে দুই বিদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃত ওই দুই থাই নাগরিকের নাম সুপওয়াদি সুকুলিয়াত ও সুথুওয়ানা কুট। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর আসে যে, শহরের বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল পার্টিতে ‘এমডিএমএ’ (MDMA), ‘মলি’ ও ‘ইয়াবা’-র মতো সিন্থেটিক মাদকের চাহিদা এবং পাচার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত বিদেশ থেকেই এই সমস্ত মারণ মাদক শহরে আমদানি করা হচ্ছে। এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল এসটিএফ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই বিদেশিনী গত মঙ্গলবার সকালেই ব্যাংকক থেকে বিমানপথে কলকাতায় আসে। এরপর তারা সরাসরি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকার একটি হোটেলে গিয়ে ওঠে। থাইল্যান্ড থেকে নিষিদ্ধ মাদক বহন করে এনে শহরের স্থানীয় মাদক কারবারিদের হাতে তা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই কলকাতার এসটিএফের একটি বিশেষ দল ওই হোটেলে অতর্কিত হানা দেয়। গোয়েন্দারা অভিযুক্তদের ঘর এবং তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজ ও পোশাক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করেন। এই তল্লাশিতেই তাদের কাছ থেকে প্রায় ২০ গ্রাম উচ্চমানের ‘মলি’ নামক বিপজ্জনক মাদক উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক কালো বাজারে যার আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষ টাকারও বেশি বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ট্যুরিস্ট ভিসার সুযোগ নিয়ে এই পাচারকারীরা অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতে প্রবেশ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এড়িয়ে শহরের ডার্ক ওয়েব ও স্থানীয় অপরাধ চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। কলকাতার তরুণ সমাজ ও উঠতি প্রজন্মের মধ্যে এই সিন্থেটিক মাদক কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছিল, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ধৃত দুই থাই মহিলাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে এসটিএফ। এই আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।