তোলাবাজি আর অত্যাচারের খেসারত! রাস্তায় খালি গায়ে গড়াগড়ি খাইয়ে তৃণমূল নেতাকে চরম শাস্তি জনতার!

রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন। ডিম ছোঁড়ার ঘটনার পর এবার এক তৃণমূল নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় খালি গায়ে, গলায় জুতোর মালা পরিয়ে কান ধরে ওঠবস করানোর এবং রাস্তায় গড়াগড়ি দেওয়ানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আবুল হাসান, যিনি বারাসতের নবপল্লি চন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। বিগত ১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূল জমানায় তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় অবাধে তোলাবাজি চালানো এবং বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম, তবে ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে যে তৃণমূল নেতা আবুল হাসানকে রাস্তার ওপর খালি গায়ে ও হাফপ্যান্ট পরে জোর করে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। চারপাশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ এই দৃশ্য দেখলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি। শুধু তাই নয়, ভিডিওর নির্দেশমতো ওই নেতাকে রাস্তায় গড়াগড়ি খেতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে চারদিক ঘুরিয়ে আবার ওঠবস করানো হয়। চরম অপমানের মুখে পড়েও ওই নেতাকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা জিম্মি দশা এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ এবার নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার দাবি করেছেন যে, এটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দল সরাসরি যুক্ত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন যে বিজেপি প্রকাশ্যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতিকে সমর্থন করে না।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের নেতাদের নিশানা করে বিভিন্ন জেলায় কাঁচা ডিম ছোঁড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় বা কর্মসূচিতে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। হাইকোর্টের কঠোর বার্তার পরেও এই ধরনের জনরোষ থামানো যায়নি। এমনকি কিছুদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপেও এক পঞ্চায়েত প্রধানকে অনুরূপভাবে রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছিল। বারাসতের এই নবতম ঘটনায় সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ছবি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।