আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অতি প্রয়োজনীয় জিনিস হলো দেশলাই বা ম্যাচ। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে ঠিক ২০০ বছর আগে ১৮২৬ সালে এই দেশলাইয়ের জন্ম হয়েছিল একেবারেই এক দুর্ঘটনাবশত? আর এই আবিষ্কারের মূলে ছিল এক ভুল!
জন ওয়াকারের সেই ‘ভুল’: ১৮২৬ সাল। ইংল্যান্ডের স্টকটন-অন-টিস-এ এক ফার্মাসিস্ট ছিলেন জন ওয়াকার। তিনি তখন বিস্ফোরক তৈরির জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ নিয়ে কাজ করছিলেন। একদিন কাজ করার সময়, রাসায়নিক মিশ্রণে ভেজানো একটি কাঠি ভুলবশত তাঁর ফায়ারপ্লেসের সামনে থাকা পাথরে ঘষা খায়। চোখের নিমেষে সেই কাঠিতে জ্বলে ওঠে আগুন!
সেই ভুল মুহূর্তটিই চিরতরে বদলে দেয় মানবজাতির আলো ও তাপ তৈরির পদ্ধতি।
আগুনের লড়াই ছিল কঠিন: তখন ছিল শিল্প বিপ্লবের সময়। একদিকে জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন রেলওয়েতে নতুন গতির সঞ্চার করছে, অন্যদিকে আগুন জ্বালানোর ক্ষেত্রে মানুষ তখনো চকমকি পাথর ও ইস্পাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। অনেক সময় বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আগুন বাঁচিয়ে রাখতে কয়লা সবসময় জ্বালিয়ে রাখতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য।
জন ওয়াকারের এই আকস্মিক আবিষ্কার আগুনকে করে তুলল বহনযোগ্য ও ব্যবহারকারী-বান্ধব। দেশলাইয়ের জন্মের পর আগুন জ্বালানো হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার!
পরিবর্তনের ইতিহাস: ১৮২৫ সালে স্টকটনে প্রথম পাবলিক রেলওয়ে পৌঁছানোর পর যখন পৃথিবী গতির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে, তখন ওয়াকারের এই দেশলাই মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিল। ঘোড়ায় চড়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে ১২ দিন লাগত, স্টিম ইঞ্জিনের দৌলতে তা নেমে এল মাত্র আট ঘণ্টায়। আর সেই ইঞ্জিনের আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে ঘরের প্রদীপ জ্বালানো—সব ক্ষেত্রেই দেশলাই হয়ে উঠল এক অপরিহার্য সঙ্গী।
আজ প্রযুক্তির আধুনিক যুগে আমাদের হাতে লাইটার থাকলেও, ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়—কখনও কখনও ছোট একটি ভুলই বড় কোনো বিপ্লবের সূচনা করতে পারে।





