পদ্মা পারের মাটি নিয়ে সূচনা! অশোকনগরের সাহা বাড়িতে শতবর্ষের পুজো, লুচি-পায়েস প্রসাদে ভিড় ভক্তদের

দুর্গাপূজার আবহে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকার বনেদি সাহা বাড়ির পুজো, যা এবার ১০০ বছরে পদার্পণ করল। অশোকনগর স্পোর্টিং ইউনিয়ন কালোবাড়ি এলাকায় এটিই একমাত্র বাড়ির পুজো। অতীতে সুদূর বাংলাদেশে প্রথম সূচনা হয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর।

দেশভাগের পর যখন পরিবারের সদস্যরা এপার বাংলায় চলে আসেন, তখন তাঁরা পুরনো পূজোর স্থানের মাটি সঙ্গে করে নিয়ে আসেন এবং সেই মাটি রেখেই মন্দির স্থাপন করে নতুন করে দুর্গাপূজা চালু করেন।

উল্টো প্রতিমার রহস্য ও কৃষ্ণ মতের পূজা
সাহা বাড়ির পুজোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এখানকার প্রতিমার সজ্জা। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, অন্য দশ জায়গায় প্রতিমার ডান দিকে গণেশ এবং বাম দিকে কার্তিক থাকেন। কিন্তু এই বাড়ির দুর্গাপূজায় দেখা যায় উল্টো প্রতিমা:

দেবীর ডান দিকে রয়েছেন কার্তিক

বাম দিকে রয়েছে গণেশ

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম যখন পুজো চালু হয়, সেই সময় মূর্তি গড়ার সময় নাকি এই অদল-বদল হয়েছিল। তারপর থেকেই সেই রীতি মেনে সাহা বাড়ির পুজোয় এই বিশেষ প্রতিমা তৈরি হয়। এই দুর্গাপূজার পুরো রীতিনীতিটাই হয় কৃষ্ণ মতে। ঠাকুরদালানেই মৃৎশিল্পীরা প্রতিবছর আস্তে আস্তে প্রতিমা গড়ে তোলেন, পরে তাতে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়।

লুচি-পায়েসের প্রসাদ ও সামাজিক উদ্যোগ
পুজোর ক’টা দিন সমস্ত আত্মীয়-স্বজনের ভিড়ে গমগম করে সাহা বাড়ি। আগত ভক্তদের পুজোর প্রসাদ হিসেবে লুচি পায়েস খাওয়ানো হয়।

খাওয়ার ব্যবস্থা: প্রসাদের পাশাপাশি খাওয়ারও আলাদা বন্দোবস্ত থাকে এবং তা পুরোটাই সামাল দেন বাড়ির মহিলারা।

শতবর্ষের উদ্যোগ: এবছর ১০০ বছর হওয়ার কারণে পরিবারের তরফে বেশ কিছু সামাজিক কাজেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এই কারণে বাইরের বারোয়ারি ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয় না বলেই জানালেন বাড়ির মহিলা সদস্যরা।

সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যবাহী সাহা বাড়ির ১০০ বছরের পূজোকে ঘিরে এই বছর এলাকাবাসীরাও আনন্দে মেতে উঠেছেন।