পকেট থেকে বের করলেই তোলপাড়! নতুন ISOCELL HPC সেন্সরে ক্যামেরা দুনিয়া কাঁপাতে চলেছে স্যামসাং!

স্মার্টফোনের আলোকচিত্রশিল্পে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিল দক্ষিণ কোরিয়ান প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। মোবাইল ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় বড় চমক দিয়ে কোম্পানিটি তাদের একেবারে নতুন এবং সর্বাধুনিক ২০০ মেগাপিক্সেলের ISOCELL HPC ক্যামেরা সেন্সর আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করেছে। এটি স্যামসাংয়ের ইতিহাসে প্রথম এমন একটি যুগান্তকারী ISOCELL সেন্সর, যেখানে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘DeepPIX’ পিক্সেল আর্কিটেকচার সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্যামসাংয়ের মূল লক্ষ্য হলো এই অত্যাধুনিক সেন্সরের মাধ্যমে আরও অনেক বেশি আলো গ্রহণ করে হাই ডাইনামিক রেঞ্জ বা HDR ফটোগ্রাফির মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া, কম আলো বা ডার্ক কন্ডিশনে ছবির নিখুঁত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ইন-সেন্সর জুমকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যা আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এই অসাধারণ সেন্সরের বাণিজ্যিক উৎপাদন ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।

স্যামসাংয়ের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নতুন ISOCELL HPC সেন্সরে ব্যবহৃত DeepPIX আর্কিটেকচারটি কোম্পানির অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ‘ফ্রন্ট ডিপ ট্র্যাশ আইসোলেশন’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এই অভিনব প্রযুক্তির জাদুকরী ক্ষমতার ফলে আগের প্রজন্মের যেকোনো সেন্সরের তুলনায় প্রতিটি পিক্সেলের আলো ধারণের ক্ষমতা এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্যামসাংয়ের ক্লেইম অনুযায়ী, এর ফলে যেকোনো শট নেওয়ার সময় ছবিতে নয়েজ বা দানাভাব অত্যন্ত কমে যাবে, উজ্জ্বল রোদ কিংবা গভীর ছায়ার নিখুঁত ডিটেইলস আরও স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠবে এবং একটি অত্যন্ত বিস্তৃত ডাইনামিক রেঞ্জ উপভোগ করা সম্ভব হবে।

ISOCELL HPC সেন্সরটির অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা সিঙ্গল-ফ্রেম ১৬-বিট HDR সাপোর্ট। সাধারণত প্রথাগত বা সাধারণ HDR সিস্টেমে ক্যামেরাকে একাধিক আলাদা ছবি জোড়া লাগিয়ে একটি ডাইনামিক রেঞ্জ তৈরি করতে হয়, কিন্তু এই নতুন সেন্সরটি মাত্র একবারের এক্সপোজারেই পুরো ডাইনামিক রেঞ্জ একনিমেষে ক্যাপচার করতে সক্ষম। স্যামসাংয়ের দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত সাধারণ HDR-এর তুলনায় এটি প্রায় চারগুণ বেশি নিখুঁত রঙের তথ্য রেকর্ড করতে পারদর্শী। শুধু স্থির ছবিই নয়, ভিডিওগ্রাফির জগতেও এই সেন্সরটি দারুণ শক্তিশালী। এটি নিখুঁতভাবে 8K রেজোলিউশনে 30fps, 4K রেজোলিউশনে 180fps এবং অবিশ্বাস্য Full HD রেজোলিউশনে 360fps পর্যন্ত দুর্দান্ত ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করতে পারে। তবে একটি বিশেষ বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, এর সর্বোচ্চ Full HD মোডে অটোফোকাস ফিচারটি কাজ করবে না।

ইন-সেন্সর জুমের বিভিন্ন স্তরেও অসাধারণ HDR প্রসেসিংয়ের সুবিধা দিচ্ছে স্যামসাং। ক্যামেরা ব্যবহারকারীরা এখন থেকে 1x, 1.5x, 2x, 3x এবং 4x জুমেও চমৎকার সিঙ্গল-ফ্রেম HDR সাপোর্ট উপভোগ করতে পারবেন। যখনই ব্যবহারকারী জুম ইন করবেন, ঠিক তখনই ছবির মূল কোয়ালিটি এবং ডাইনামিক রেঞ্জ অটুট রাখতে সেন্সরটি অত্যন্ত নিখুঁত ডাউনস্কেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এছাড়া কম আলো বা অন্ধকারের মধ্যেও আরও স্পষ্ট ছবি তোলার জন্য এই সেন্সরে ‘হাই প্রিসিশন মাইক্রোলেন্স’ এবং ‘হাই ট্রান্সমিশন এআরএল’-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এগুলির প্রধান কাজ হলো ফটোডায়োডে বহুগুণ বেশি আলো পৌঁছে দেওয়া এবং আলোর যেকোনো অবাঞ্ছিত প্রতিফলন বা ছড়িয়ে পড়া রোধ করা। স্যামসাং জানিয়েছে যে, এর ফলে যেকোনো কঠিন আলোর পরিস্থিতিতেও চমৎকার কোয়ান্টাম এফিসিয়েন্সি, নিখুঁত রঙের ভারসাম্য এবং ঝকঝকে ছবি পাওয়া যাবে।

পুরো প্রযুক্তিগত কাঠামোর কথা বলতে গেলে, ২০০ মেগাপিক্সেলের ISOCELL HPC সেন্সরটির অপটিক্যাল ফরম্যাট হলো 1/1.3 ইঞ্চি এবং এতে খুব সূক্ষ্ম 0.6 মাইক্রোমিটারের পিক্সেল ব্যবহার করা হয়েছে। সেন্সরটির অবিশ্বাস্য রেজোলিউশন হলো 16,384 x 12,288 পিক্সেল। এছাড়া এটি সুপার কিউপিডি অটোফোকাস, টেট্রা-স্কোয়্যার্ড পিক্সেল এবং স্মার্ট আইএসও প্রো এইচডিআর-এর মতো আধুনিক সব ফিচার দুর্দান্তভাবে সাপোর্ট করে। এই সেন্সরের ক্ষমতা এতটাই বেশি যে এর সাহায্যে ২০০ মেগাপিক্সেল ফুল মোডে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫টি, ৫০ মেগাপিক্সেল মোডে প্রতি সেকেন্ডে ৩০টি এবং ১২.৫ মেগাপিক্সেল মোডে প্রতি সেকেন্ডে অবিশ্বাস্য ১৮০টি ছবি নিমেষে তোলা সম্ভব। তবে কোন প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে প্রথম এই দুর্দান্ত ISOCELL HPC সেন্সরটি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে স্যামসাং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।