আট হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার ভাগ্য খুলল! দিল্লির স্কুলে ভর্তির দ্বিতীয় লটারি নিয়ে বড় আপডেট

দিল্লির বেসরকারি স্কুলগুলিতে সংরক্ষিত আসনে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকদের জন্য এল বড় সুখবর। শিক্ষা অধিদপ্তর (DoE) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইডব্লিউএস (EWS), ডিজিসি (DG) এবং বিশেষভাবে সক্ষম (CWSN) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত প্রবেশ স্তরের ক্লাসে ভর্তির জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের কম্পিউটরাইজড লটারির ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৮,৯৭৬ জন শিশুকে নার্সারি, কেজি এবং প্রথম শ্রেণিতে সিট বরাদ্দ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ড্র-এর প্রয়োজনীয়তা কেন?
দিল্লি সরকার পরিচালিত বেসরকারি এবং সরকার-স্বীকৃত স্কুলগুলিতে সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রথম পর্যায়ের লটারি সম্পন্ন হয়েছিল গত ৬ এপ্রিল ২০২৬। তবে নথিপত্রের অভাব বা অনেক অভিভাবক সময়মতো স্কুলে রিপোর্ট না করায় প্রথম ধাপের পরে বেশ কিছু আসন খালি থেকে গিয়েছিল। সেই শূন্যপদগুলি পূরণের লক্ষ্যেই সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ের এই লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল। এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত শ্রেণীর প্রায় নয় হাজার শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ তৈরি হলো।

কোন ক্লাসে কত সুযোগ?
শিক্ষা অধিদপ্তর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নার্সারি শ্রেণিতে ইডব্লিউএস এবং ডিজিসি বিভাগের ৩,৪২০ জন এবং বিশেষভাবে সক্ষম (CWSN) বিভাগের ১৯০ জন শিশুকে নির্বাচিত করা হয়েছে। কেজি স্তরে ইডব্লিউএস/ডিজিসি বিভাগের ১,২১০ জন এবং সিডব্লিউএসএন বিভাগের ১০৭ জন পড়ুয়া সিট পেয়েছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণিতে ইডব্লিউএস/ডিজিসি বিভাগের ৩,৮৫৬ জন এবং সিডব্লিউএসএন বিভাগের ১৯৩ জন শিশুকে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি একটি স্বচ্ছ কম্পিউটার চালিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভর্তির শর্তাবলী ও নথি
ভর্তির জন্য বয়সসীমা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী, নার্সারির জন্য ৩ থেকে ৫ বছর, কেজির জন্য ৪ থেকে ৬ বছর এবং প্রথম শ্রেণির জন্য ৫ থেকে ৭ বছর বয়স নির্ধারিত রয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল থেকে ইস্যু করা বৈধ শংসাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। শিক্ষা অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে, যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল ঠিকানা বা জাল নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শিশুর বরাদ্দকৃত আসন তৎক্ষণাৎ বাতিল করা হবে।

ফলাফল দেখবেন যেভাবে
অভিভাবকরা এখন সহজেই শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিজের সন্তানের রেজাল্ট দেখে নিতে পারবেন। ওয়েবসাইটের লিঙ্কে গিয়ে শিশুর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং জন্মতারিখ ইনপুট দিলেই ফলাফল জানা যাবে। এছাড়া, নির্বাচিত শিশুদের অভিভাবকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত সিট পাওয়ার পর অভিভাবকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে ভর্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দিল্লির হাজার হাজার পরিবারের জন্য এই দ্বিতীয় লটারি নিশ্চিতভাবে এক নতুন আশা ও ভবিষ্যতের দ্বারের সুযোগ করে দিল।