তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট কি সত্যিই বন্ধ? ইডির দাবির পর হাইকোর্টে রায় ঘোষণা স্থগিত

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর নির্দেশে ‘ফ্রিজ’ বা অবরুদ্ধ করে রাখা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি সোমবার শেষ হলো কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে। ইডির জমা দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

আদালতে দুই পক্ষের যুক্তি: হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ও কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও নির্বাচনী খরচ নির্বাহের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এছাড়া পিএমএলএ (PMLA) আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে, ইডির পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু পাল্টা দাবি করেন, আটটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে মাত্র তিনটি ফ্রিজ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি। ইডির মতে, ওই সব অ্যাকাউন্টে এখনও প্রায় ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, ফলে দল পরিচালনায় আর্থিক সংকটের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্ত চলছে বলে আদালতকে জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়: এই মামলার শুনানি চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলায় ‘পার্টি’ হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, দলের কর্তৃত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই আদালত বর্তমানে সেই বিতর্কে হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ: মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইডির দেওয়া রিপোর্টের ওপর আদালত বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি। রাজ্যের শাসকদলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলার রায় আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে।