নৈহাটির মতো ‘ক্ষীরপাইয়ের বড়মা’! রুদ্ররূপী দেবীর এক হাতে পৃথিবী, আরেক হাতে পায়রা, বছরের যেকোনো দিন পুজো দেন ভক্তরা নিজেরাই

নৈহাটির ‘বড়মা’র মতোই এবার আলোচনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ক্ষীরপাই পুরসভার ‘ক্ষীরপাইয়ের বড়মা’। এখানকার শ্মশানকালী মন্দিরে রয়েছে প্রায় ৪২ ফুট উঁচু মা কালীর বিশাল কংক্রিটের মূর্তি। তবে এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— এখানে মায়ের পুজো করতে কোনও পুরোহিতের প্রয়োজন হয় না। ভক্তরা নিজেরাই নিজেদের হাতে পুজো দিতে পারেন এবং দান বা দক্ষিণা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চিরকুনডাঙা শ্মশানে অবস্থিত এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

বন্যায় জন্ম নিল ‘বড়মা’র মন্দির

এই পুজোর শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা শুদ্ধদেব রায়। প্রথমে মাটির চালায় ‘ছোটমা’ নামে এক ছোট কালীমূর্তির পুজো হতো। কিন্তু এক বিধ্বংসী বন্যায় সেই মাটির চালা ডুবে গিয়ে মূর্তি ভেঙে যায়। সেই ঘটনার পর বন্যাপীড়িত অবস্থায় মা’র একটি ভাঙা হাত অবশিষ্ট ছিল। এরপরই মায়ের নির্দেশ মেনে বড় করে মন্দির তৈরি করে তার পাশে স্থাপন করা হয় ৪২ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের ‘বড়মা’র মূর্তি।

পুজোর বিশেষ নিয়ম

ক্ষীরপাইয়ের বড়মা-র মন্দিরে ভক্তদের জন্য রয়েছে অনন্য সুযোগ:

স্বহস্তে পুজো: কালীপুজো ও অমাবস্যার তিথি ছাড়া বছরের যেকোনো দিন, যেকোনো সময়ে ভক্তরা নিজেদের ফলমূল ও নৈবেদ্য সহকারে নিজেদের হাতে দেবীর পুজো করতে পারেন।

দক্ষিণা নিষিদ্ধ: মন্দিরের ভিতরে ও বাইরে কমিটি পোস্টার লাগিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখানে দান বা দক্ষিণা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

বলি প্রথা: শ্মশানকালী হলেও বড়মা-র পুজোয় বলি দেওয়া হয় না। তবে ‘ছোটমা’র পুজোয় বলির প্রথা রয়েছে, যার মাংস পরের দিন খিচুড়ি প্রসাদের সঙ্গে মিশিয়ে ভক্তদের দেওয়া হয়।

দেবীর বিশেষত্ব

বড়মা-র মূর্তিতে মা রুদ্ররূপী হলেও শান্তির বার্তা দিয়েছেন। দেবীর এক হাতে রয়েছে পৃথিবী, যা ধরিত্রীর রক্ষাকর্ত্রীর প্রতীক। আরেক হাতে রয়েছে শান্তির বাহক সাদা পায়রা। বাকি দুই হাতে খড়গ ও মুণ্ড রয়েছে।

মন্দির প্রতিষ্ঠাতা শুদ্ধদেব রায় জানান, অসম, ওড়িশা এমনকি বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ এখানে আসেন পুজো দিতে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মন থেকে দেবীর কাছে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়ই।

পুজো দিতে আসা নেহা মণ্ডল, বন্দনা মহন্ত এবং সমীর ঘোষের মতো ভক্তরা জানান, এই কালীমূর্তি বিসর্জন হয় না, বরং সারা বছরই মানুষ আসে পুজো দেয় এবং মনস্কামনা পূরণ করে। এই মন্দির যেন ভক্তদের নিজেদের মায়ের মতো।