একুশের পর ছাব্বিশের মহাযুদ্ধেও নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রাম থেকেই লড়াই শুরু করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের কাছে নিজের সম্পত্তির যে খতিয়ান তিনি পেশ করেছেন, তা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল। কারণ, অধিকাংশ নেতার সম্পত্তি বাড়লেও শুভেন্দুর হলফনামা বলছে, গত ৫ বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৪৯ টাকা।
বর্তমানে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ৯০ লক্ষ টাকার উপরে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হেভিওয়েট এই প্রার্থীর কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, নেই কোনো সোনার গয়নাও। হাতে নগদ মাত্র ১২ হাজার টাকা! তবে তমলুক ও কারকুলিতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি মিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ১১৫২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি রয়েছে তাঁর নামে।
সম্পত্তির চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থাকা মামলার দীর্ঘ তালিকা। হলফনামার প্রায় ২০টি পাতা জুড়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম থেকে জোড়াসাঁকো—রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার বিবরণ। যার মধ্যে শ্লীলতাহানি (POCSO), খুনের চেষ্টা ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই কি এই ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘মামলার পাহাড়’ নিয়ে বৈতরণী পার হতে পারবেন শুভেন্দু? এখন সেটাই দেখার।