নিস্তব্ধতা ভেঙে ময়দানে অভিষেক! হারের ধাক্কা কাটিয়ে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু বিশেষ সফর

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে আশানুরূপ সাফল্যের দেখা না পাওয়ায় রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে এখন এক অস্থির সময় চলছে। ভোটের ভরাডুবির সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করেছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অবশেষে ময়দানে নামছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি বিভিন্ন জেলায় সফর শুরু করবেন এবং ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অশান্তির খবর আসছে। কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, আবার কোথাও কর্মীদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াতে নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি যে এখন সময়ের দাবি, তা দলের অন্দরেও প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে অভিষেকের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই সফরের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর জেলায় যাবেন। আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে পারেন। এই বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি, সংগঠনকে কীভাবে ঢেলে সাজানো যায় এবং আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
দলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল সংগঠনের বেশ কিছু অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বুথ স্তরে যোগাযোগের অভাব, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের দূরত্বের কারণে ক্ষোভ এবং বিরোধী শিবিরের আগ্রাসী প্রচারের কাছে বহু এলাকায় দল জমি হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং কর্মীদের মানসিকভাবে সাহস জোগানোর একটি বড় উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সফরের মাধ্যমে কর্মীদের সরাসরি বার্তা দেবেন যে, দল তাঁদের বিপদে একা ফেলে দেবে না। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনি লড়াইয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দল যে বদ্ধপরিকর, সেই বার্তাই এই সফরে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সরাসরি கள বা ময়দানে নেমে আসার সিদ্ধান্ত দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের ভিত মজবুত করে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর শুরু হতে চলেছে।