”নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট’,-UCC নিয়ে রাজ্যের BJP সরকারকে আক্রমণ ইমাম কাসমির

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বিল পেশের তোড়জোড় শুরু হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ চরমে। এই আবহে ইউসিসি-র উদ্দেশ্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে সরব হলেন ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি। তাঁর দাবি, এই আইন দেশের বা সাধারণ মানুষের স্বার্থে আনা হচ্ছে না, বরং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যা বলেছেন ইমাম শফিক কাসমি রবিবার পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৌলানা কাসমি বলেন, “ইউনিফর্ম সিভিল কোড কোনোভাবেই জনস্বার্থবাহী নয়। যদি এমন হতো যে এই আইনের মাধ্যমে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বিশেষ উপকার হতো, তা নাহয় বিবেচনা করা যেত। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে আইন প্রণয়ন করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না।”

সরকারের লক্ষ্য কী? উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি চালুর বিষয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন। বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছিল। সেই লক্ষ্যেই বিধানসভার চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে ইউসিসি বিল পেশ করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল পেশের মাধ্যমে সরকার নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকেই পা বাড়াতে চলেছে।

বিরোধিতা ও আইনগত বিতর্ক ইউসিসি ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) এবং ধর্মীয় স্বাধিকার খর্ব হতে পারে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কী? সহজ কথায়, ইউসিসি হলো এমন একটি অভিন্ন আইন ব্যবস্থা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত নিয়ম এক হবে। ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে এটি চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও অতীতে একাধিকবার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছে, তবে কোনো রাজ্য সরকারকে এটি চালুর সরাসরি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি।

এর আগে উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ সেই পথেই হাঁটলে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে যে প্রবল বাদানুবাদ হতে চলেছে, তা নিশ্চিত। এখন দেখার বিষয়, বিলটি পেশ হওয়ার পর তা কতটা প্রভাব ফেলে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে।