“নির্দিষ্ট সময়ে সিদ্ধান্ত না হলে সোজা সুপ্রিম কোর্টে যাব!” স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক অভিষেক

সংসদে এনসিপি (NCP) সাংসদদের আসন বিন্যাস, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থগিতাদেশ এবং দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতা সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল ইস্যুতে লোকসভার স্পিকারকে তীব্র নিশানা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতার আবেদনগুলির আইনি নিষ্পত্তি না হলে তাঁরা সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

অভিষেকের প্রধান অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত সাংসদদের আসন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে এমন কিছু এনসিপি সাংসদের পাশে বসানো হয়েছে, যাঁরা প্রকাশ্যে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন বা লোকসভার তরফে এখনও পর্যন্ত তাঁদের পৃথক কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি। তিনি জানান, অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই গত ২২ থেকে ২৩ জুলাই তিনি এই গুরুতর বিষয়টি স্পিকারের নজরে এনেছিলেন। স্পিকারের নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসারে গত ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর দপ্তরে প্রয়োজনীয় চিঠিও জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডলের মতো প্রবীণ ও বিশিষ্ট সাংসদরা স্পিকারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে এই অসঙ্গতির কথা জানান। কিন্তু এতকিছুর পরেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক।

একইসঙ্গে, সহকর্মী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় সাসপেনশন বা বরখাস্তের প্রসঙ্গটিও স্পিকারের সামনে জোরালোভাবে তোলা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। অভিষেকের দাবি, এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রায় কুড়ি দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও স্পিকারের দপ্তর থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টে পরবর্তী অধিবেশনের প্রাক্কালে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখার গতানুগতিক আশ্বাস দিয়েই দায় সারা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

দলত্যাগকারী সাংসদদের নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন, সংশ্লিষ্ট ওই সাংসদরা বিগত লোকসভা নির্বাচনে মূলস্রোতের তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন এবং সুপ্রিম নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখেই ভোট ময়দানে নেমেছিলেন। অথচ বর্তমানে তাঁরা সরাসরি এনডিএ (NDA)-র প্রতি নিজেদের প্রকাশ্য সমর্থনের কথা ঘোষণা করছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ অবিলম্বে খারিজ করা উচিত বলে তিনি জোরালো দাবি জানান।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, ওই দলত্যাগী সাংসদদের যদি সংসদীয় নিয়মে পৃথক কোনো স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে এখনো পর্যন্ত স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে সংসদে তাঁদের বক্তব্যের সময় কেন প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বরাদ্দকৃত সময় থেকে সময় কেটে নেওয়া হবে? তাঁর আরও অভিযোগ, সংসদে অফিশিয়াল কার্যবিবরণী ও বক্তব্যের সময় এখনও তাঁদের নাম সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কাঠামোর অধীনেই দেখানো হচ্ছে।

গত জুন মাসেই সংশ্লিষ্ট দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে আইনি বিধান মেনে পৃথকভাবে অযোগ্যতার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অভিষেক। তবে প্রায় দুই দীর্ঘ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সেই গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলির বিষয়ে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আদালতের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে অভিষেকের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, আইন এবং বিচারবিভাগের স্পষ্ট নির্দেশ মেনে যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকার সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন, তবে বাধ্য হয়েই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন এবং এই বিষয়ে আদালতের কড়া আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করবেন।