নিম্ন আদালতের রায় ফুঁকে দিল হাইকোর্ট! যৌন কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত তরুণ তেজপালকে নিয়ে শিউরে ওঠার মতো খবর

সাংবাদিকতা জগতের একসময়কার পরিচিত নাম তথা ‘তেহেলকা’ ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তরুণ তেজপাল শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন হেনস্থা মামলায় বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন। নিম্ন আদালত অতীতে তাঁকে বেকসুর খালাস করলেও, বৃহস্পতিবার সেই বিতর্কিত রায় খারিজ করে দিয়ে তাঁকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করেছে বম্বে হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ায় আয়োজিত একটি হাই-প্রোফাইল ‘থিঙ্কফেস্ট’ ইভ চলাকালীন হোটেলের লিফটের ভেতরে নিজেরই এক জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন নিগ্রহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গোয়া সরকারের করা আপিলের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া চলার পর আজ দুপুর আড়াইটে নাগাদ এই মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে আদালত।

বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চের দুই সম্মাননীয় বিচারপতি নীলা গোখালে এবং অমিত জামসানদেকর এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার রায়দান করছেন। তেজপালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি অত্যন্ত কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধারা ৩৭১(২)(এফ), যা এমন কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যিনি কোনো কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবকের স্তরে থেকে মহিলাকে নির্যাতন করেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ধারা ৩৫৪(এ) এবং ৩৫৪(বি)-এর অধীনে যৌন হেনস্থা ও বলপ্রয়োগের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। এই অপরাধগুলির তীব্রতা এতটাই বেশি যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭১ নম্বর ধারার বিধান অনুযায়ী তরুণ তেজপালের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দশ বছরের কারাবাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আজীবন জেলের সাজা পর্যন্ত হতে পারে।

আদালতের এই রায় ঘোষণার দিন এজলাসে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ৬২ বছর বয়সি তরুণ তেজপাল। বিচার চলাকালীন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি দাবি করেন যে তিনি এক গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আদালত চত্বরে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে জানান যে তাঁর বয়স হয়েছে, তিনি দুই মেয়ের বাবা এবং তাঁর পরিবার রয়েছে। তবে আইনি লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে সাজা ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ পেতে তিনি তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান আইনজীবী আদাব পোন্ডা আদালতের কাছে আসামির বয়স ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে ন্যূনতম সাজার আর্জি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে গোয়ার একটি নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিলেও, সেই রায়ের বিরুদ্ধে গোয়া সরকার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়, যার জেরে আজ এই ঐতিহাসিক মোড় নিল মামলাটি।