নিট বিক্ষোভে পেলেট গান ও লাঠিচার্জ! অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে বোমা ফাটালেন রাহুল গান্ধী

দেশজুড়ে নিট (NEET UG) পরীক্ষার জট এবং ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার আন্দোলন ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ালো জাতীয় রাজনীতিতে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়া এবং পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লাগাতার অনুপস্থিতি এবং নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস সাংসদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মৌনতা আদতে হিংসার পক্ষেই প্রত্যক্ষ সমর্থন।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল গান্ধী জানান, নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিতে পড়ুয়ারা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করা হয়, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয় এবং পেলেট গান চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নজরদারিতে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, সরকারের তরফ থেকে সন্তোষজনক জবাব না মেলা পর্যন্ত বিরোধী শিবির এই লড়াই থেকে পিছপা হবে না।

এক্স হ্যান্ডেলে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল লেখেন, “পুলিশের নির্মম অত্যাচারে বহু তরুণীর গোপনাঙ্গে আঘাত লেগেছে, নাবালকদের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দেশের যুবসমাজকে এভাবেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে মোদী সরকার।” গত ২০ জুলাই রাজধানীতে ঘটা এই ভয়াবহ হিংসার প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ নিবন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, এই ঘটনায় স্রেফ দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যার অর্থ তিনি সরাসরি অপরাধী; নতুবা তিনি দেশজুড়ে চলা এই তাণ্ডব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন না, যার অর্থ তিনি তাঁর পদের জন্য পুরোপুরি অযোগ্য। উভয় ক্ষেত্রেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নৈতিক দায়ভার এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

রাহুলের দাবি, এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তিতে এক বিরাট ও অপূরণীয় ধাক্কা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শাসকদল প্রচারযন্ত্রকে ব্যবহার করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো জোরালো তদন্তের নির্দেশ বা বিবৃতি মেলেনি। উল্টোদিকে সংসদে বিরোধীদের আলোচনার প্রতিটি প্রস্তাব একের পর এক খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। শাসকদলের এই ঔদ্ধত্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এই বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ জবাবদিহি আদায় করেই ছাড়বে ইন্ডিয়া জোট।