নিজেকে ভগবান দাবি করা আসারামকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট! জামিনের আবেদন খারিজ হতেই কি বাড়ল দুশ্চিন্তা?

সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, নিজেকে সর্বশক্তিমান ভগবান বলে দাবি করা বিতর্কিত স্বঘোষিত বাবা আসারামকে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। ২০১৩ সালের একটি নাবালিকা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলায় বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছেন এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। তবে জামিনের আবেদন খারিজ করলেও শীর্ষ আদালত তাঁর শারীরিক অসুস্থতার দিকটি মানবিক বিচার করে তাঁকে এক বড় স্বস্তি দিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আসারাম এখন থেকে তাঁর জেলবন্দি জীবনে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক চিকিৎসার তদারকি ও দেখভালের জন্য নিজের পছন্দের একজন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কেয়ারটেকার বা পরিচর্যাকারী সঙ্গে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, আগামী দিনে যদি তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে, তবে তিনি আইনি নিয়ম মেনে পুনরায় জামিনের জন্য আদালতের দারস্থ হতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই এই সংক্রান্ত জমা পড়া বিখ্যাত এইমস (AIIMS) হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করার পরই এই নির্দেশ জারি করেন। ওই সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, আসারামের শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে বা আইসিইউতে ভর্তি করার কোনো পোক্ত বা জরুরি প্রয়োজন নেই, তবে তাঁর নিয়মিত ও অবিরাম চিকিৎসাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। আদালতে শুনানিমঞ্চে উপস্থিত থেকে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার मेहता নিশ্চিতভাবে আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, এইমস হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টের প্রতিটি সুপারিশ ও নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং সঠিক ভাবার্থ বজায় রেখেই মেনে চলা হবে। এই আশ্বাসের পরেই বিচারপতিদের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন যে, আবেদনকারী আসারাম তাঁর নিজস্ব পছন্দমতো একজন প্রশিক্ষিত কেয়ারটেকারের সেবা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।

আদালতের এই বেঞ্চ তাদের নির্দেশনামায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, “আমরা গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এইমস কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠির যাবতীয় বিষয়বস্তু গভীর মনোযোগ সহকারে খতিয়ে দেখেছি। সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্যের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেই আমরা নির্দেশ দিচ্ছি যে, চিঠিতে উল্লেখিত সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে এবং এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে তাঁর পছন্দের কেয়ারটেকার নিয়োগের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের ফলেই আসারামের একটি ব্যাপক ও সামগ্রিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতেই এইমস কর্তৃপক্ষ তাদের এই মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে পেশ করে। সার্বিক এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের বার্তা স্পষ্ট যে, অপরাধের সাজা হিসেবে আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে, তবে চিকিৎসাগত অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।