নিউটাউন ব্যবসায়ী খুন: ‘BDO-র নির্দেশে মার’, স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত বিবেকানন্দের, বাজেয়াপ্ত হল মোবাইল

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনায় আগেই তিন অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এবার বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ মূল অভিযুক্ত, বিবেকানন্দ সরকারের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়েছে।
সূত্রের খবর, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিবেকানন্দ সরকার নাকি বিডিও-র নির্দেশেই মারধর করার কথা স্বীকার করেছে। শুধু তাই নয়, মারধরে ব্যবহৃত সামগ্রী লোপাট করার নির্দেশও বিডিও-ই দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে সে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত লোহার রড, লাঠি এবং বেল্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিবেকানন্দ সরকার জানিয়েছে, বিডিও-র নির্দেশেই এই মারধরের জিনিসপত্র লোপাট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত কোচবিহার ২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সজল সরকারের নির্দেশেই বিবেকানন্দ বিডিও-র সঙ্গে দাঁতনে গিয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিবেকানন্দ দাবি করেছে যে, সজলের মাধ্যমেই বিডিও-র সঙ্গে তার পরিচয়। খুনের আগের দিন সজলের সঙ্গেই কলকাতায় এসেছিল বিবেকানন্দ।
ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে পুলিশ এবার অত্যাধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছে। অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের পরে এবার করা হয়েছে জিও ম্যাপিং। বিধাননগর পুলিশ ড্রোনের মাধ্যমে এই জিও ম্যাপিং করেছে।
দত্তাবাদ থেকে নিউটাউনের রাস্তা ধরে, বিডিও-র ফ্ল্যাট হয়ে যেখানে দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গা পর্যন্ত এই জিও ম্যাপিং প্রক্রিয়া চালানো হয়। নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করার জন্য ফরেন্সিক টিমও ঘটনাস্থলে আসে। নিউটাউনে রাজগঞ্জের বিডিও-র ফ্ল্যাট থেকেও নতুন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বিবেকানন্দ সরকার বিডিও-র ঘনিষ্ঠ ‘মাসলম্যান’ হিসেবে পরিচিত।