১-৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়! ব্রিটিশ লাক্সারি কারে শুল্ক কমালো সরকার

অবশেষে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এলো। ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (CETA) ১৫ জুলাই, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার ফলে বিলাসবহুল ব্রিটিশ গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে চলেছে। এই চুক্তির ফলে রোলস-রয়েস, রেঞ্জ রোভার, অ্যাস্টন মার্টিন এবং ম্যাকলারেনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম গাড়িগুলো এখন ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িগুলোর ওপর ১১০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছিল, যা এখন প্রথম বছরের জন্য কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর খুচরো বাজারে দাম প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। মডেল অনুযায়ী, ক্রেতারা একটি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। সরকার একটি ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ) ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রথম বছরে ব্রিটেন থেকে সম্পূর্ণ তৈরি (CBU) অবস্থায় আমদানিকৃত ১০,০০০টি পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেই এই ৩০ শতাংশ শুল্কের সুবিধা প্রযোজ্য হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এই আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড এবং হাইড্রোজেন চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুবিধা পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ভারতের প্রিমিয়াম গাড়ি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক কমার ফলে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে এই ব্রিটিশ ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। টাটা মটর্স-এর মালিকানাধীন জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতো কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের নির্দিষ্ট কিছু মডেলের দাম কমিয়ে বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই বাণিজ্য চুক্তি শুধু গাড়ি আমদানিতেই সুবিধা আনছে না, বরং ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। যারা এতদিন বিলাসবহুল ব্রিটিশ গাড়ির স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই এক দারুণ সুযোগ