কুণাল ঘোষের সাসপেনশন ঘিরে চরম অশান্তি! বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে তীব্র বচসা ও হট্টগোল!

বুধবার স্পিকারের নির্দেশে এক দিনের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল তীব্র গুঞ্জন। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগে সেই সাসপেনশন ইস্যুতেই ফের চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলো রাজ্য বিধানসভায়। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকারের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ এবং বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে হাতাহাতির উপক্রম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিন স্পিকারের নেওয়া আগের দিনের সেই পদক্ষেপ এবং উত্তপ্ত পরিবেশকে ‘কলঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করা হয়, যা নিয়ে অধিবেশন কক্ষে নতুন করে রাজনৈতিক তর্জার সূত্রপাত ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শাসকদলের তরফ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বুধবারের অনভিপ্রেত ঘটনাটি পুনরায় বিধানসভায় উত্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু স্পিকার সেই আবেদন পত্রপাট নাকচ করে দেন। এরপরই এই নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সুর চড়তে শুরু করে। স্পিকারের কড়া অবস্থানের প্রতিবাদে এবং কুণাল ঘোষের সাসপেনশনকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে পুরো চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাসক পক্ষের আপত্তির মাঝেই বিজেপি বিধায়করা সরাসরি ওয়েলে নেমে আসেন এবং বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়।
সরাসরি ওয়েলে নেমে পড়ার ফলে বিধানসভার অন্দরে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে কুণাল ঘোষের তীব্র বাদানুবাদ ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিরোধী দলের বিধায়করা সরকারের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন, অন্যদিকে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বুধবারের সাসপেনশন কাণ্ড যে এত সহজে থামছে না, বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শুরুতেই তা স্পষ্ট হয়ে গেল। স্পিকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শাসক ও বিরোধী পক্ষের এই পারদ চড়ানো তরজা এবং হইচইয়ের জেরে বিধানসভার অন্দরমহলে এক নজিরবিহীন ও অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।