নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু: পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ প্রধান শিক্ষকের, সাসপেন্ড ৩ হস্টেল কর্মী

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইষ্টেষানন্দ মহারাজ পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে, ছাত্রদের ওপর নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ ওঠায় তিন হস্টেল কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মিশন কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকালে হস্টেলে একটি ফ্লাস্ক থেকে অত্যন্ত গরম চা পান করার পর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ১৮ বছর বয়সী দীপ্তাংশু। চা পান করার পরই তাঁর তীব্র কাশি শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অভিযোগ, ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে বাবার উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গরম পানীয় পানের ফলে তাঁর পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত নিহত ছাত্রের বাবা, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মনোরঞ্জন মাহাতো স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, চরম গাফিলতি এবং সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার কারণেই তাঁর ছেলেকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
হস্টেলের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন এই ঘটনার পর ছাত্র ও অভিভাবকদের একাংশ হস্টেলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে গুরুতর সব অভিযোগ সামনে এনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ, মারধর এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নির্যাতনের মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে হাউস মাস্টার ও কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিশনের সম্পাদক স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ মহারাজ ছাত্র ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও, বিক্ষোভ থামেনি। সহপাঠীদের স্পষ্ট অভিযোগ, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে দীপ্তাংশুকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো।
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা এবং ছাত্র নিরাপত্তা নিয়ে উঠে আসা একের পর এক অভিযোগ রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।