নয়ডার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মর্মান্তিক পরিণতি! ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারালেন মহিলা

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ন’টা। দিল্লি-এনসিআর সংলগ্ন নয়ডার সেক্টর ১০০-এর অভিজাত ‘লোটাস এস্পেশিয়া’ সোসাইটি তখন প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ততায় মগ্ন। কিন্তু পার্ল টাওয়ারের ৩২ নম্বর ব্লকের ১৮০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে আসা একটি আর্তনাদ আর তারপর বিকট শব্দে চিরতরে বদলে গেল সকালের সেই শান্ত চিত্র। ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করে দিলেন ৪৬ বছর বয়সী পারুল আগরওয়াল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টা নাগাদ যখন বাড়ির সদস্যরা বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগেই বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেন পারুল। বহুতল থেকে নিচে আছড়ে পড়ার ফলে তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। বিকট আওয়াজ শুনেই সোসাইটির অন্য বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো আবাসন চত্বরে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করেছে। মৃতার স্বামী পল্লব আগরওয়াল পুলিশকে জানিয়েছেন, পারুল দীর্ঘ দিন ধরেই তীব্র বিষণ্ণতা এবং মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ঘটনার সময় পল্লব তাঁর মেয়েকে নিয়ে বাইরে ছিলেন। বাড়ির বড়দের অনুপস্থিতির সুযোগেই এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন গৃহবধূ।
তবে শুধুমাত্র পরিবারের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শেষ করতে রাজি নয় পুলিশ। সেক্টর ৩৯-এর স্টেশন হাউস অফিসার ডিপি শুক্লা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, তা জানতে সোসাইটির সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক টিম প্রতিটি কোণ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে যাতে কোনো ধোঁয়াশা না থাকে।
মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে তবেই মৃত্যুর পেছনের কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এই ঘটনায় পুরো নয়ডাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।