বিজেপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা? পাথর ছুঁয়ে মন্দিরে দাঁড়িয়ে যা বললেন বিধায়ক এইচ.কে. সুরেশ!

বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়কদের দলবদলের জল্পনা ও ক্রস-ভোটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল কর্ণাটকের রাজনীতি। এই টানাপড়েনের আবহে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ও ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে এক অভিনব পথ বেছে নিলেন হাসান জেলার বেলুর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক এইচ.কে. সুরেশ। দলের প্রতি অটুট আনুগত্য প্রমাণ করতে তিনি হাজির হলেন বেলুরের ঐতিহাসিক শ্রী চন্নকেশবস্বামী মন্দির চত্বরে।
মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বিধায়ক যা করলেন, তা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ হতবাক। মন্দিরের সামনে অবস্থিত পবিত্র যজ্ঞের পাথর (কারিকাল্লু) স্পর্শ করে এইচ.কে. সুরেশ উচ্চস্বরে শপথ নিলেন। তিনবার যজ্ঞের পাথরের দিকে তাকিয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, ”এই পবিত্র পাথর সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আমি বিধান পরিষদ নির্বাচনে কোনো দলকেই ভোট দিইনি।” নিজের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে তিনি এই শপথ তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন। সুরেশ আরও আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ”যতদিন আমি বেঁচে থাকব, বিজেপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমি ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শের সঙ্গে কোনোদিন বেইমানি করিনি।”
মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও দেবতার দর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক এইচ.কে. সুরেশ তাঁর বিরুদ্ধে চলা প্রচারকে এক গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ”আমার বিরুদ্ধে ক্রস-ভোটিং-এর যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এক বিরাট চক্রান্ত। যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের নির্বাচনী এলাকায় এসে প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই নেতাদের ও দলের প্রতি আমি কোনোদিন অবিচার করতে পারি না। যদি আমি এমনটা করি, তবে ঈশ্বর আমাকে কখনও ক্ষমা করবেন না। ঈশ্বরই আজ আমার একমাত্র সাক্ষী।”
টাকা দিয়ে বিধায়ক কেনাবেচার যে অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, সেই প্রসঙ্গে সুরেশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জানান, ”আমাকে কেউ কিনতে পারবে না; টাকা দিয়েও নয়, কোনো রকম সহিংসতা বা ভয় দেখিয়েও নয়। আমাকে কেবল জনগণের ভালোবাসা দিয়েই কেনা সম্ভব। সাধারণ মানুষের এই অকুন্ঠ ভালোবাসাই আমার আসল সুরক্ষা কবচ।”
মঙ্গলবার সকালে চন্নকেশবস্বামী মন্দিরে গিয়ে তিনি দেবতার পাশাপাশি সৌম্য নায়কী এবং রঙ্গনায়কী আম্মার চরণে বিশেষ পুজো দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই সুরেশ এমন কঠোর ও নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই শপথের পরেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই বিতর্ককে কতটা শান্ত হতে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।