তারাতলা কাণ্ডে ফিরহাদকে নিয়ে মমতা-শুভেন্দুর নয়া সমীকরণ! ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের উত্তাপ এখন সোশাল মিডিয়ার পাতায়। তারাতলা গুদাম বিপর্যয় এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম জড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা মন্তব্যের পর, এবার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য আসলে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে তাঁর রক্ষণাত্মক মনোভাবের প্রতিফলন।

গত সপ্তাহের বাজেট অধিবেশনে তারাতলা গুদাম বিপর্যয় নিয়ে আলোচনার সময় শুভেন্দু অধিকারী একটি নথি পেশ করে দাবি করেন, সেখানে ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তিনি ‘কালীচরণ’ নামক এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ইঙ্গিত দেন যে, প্রাক্তন মেয়রের সম্মতি ছাড়া পুরসভায় কোনো বিল্ডিং প্ল্যান পাস হতো না। শুভেন্দুর সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি নথিই প্রমাণ হয়, তবে ফিরহাদ হাকিমকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?

এই প্রশ্নের পাল্টা হিসেবে সোমবার গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক রূপক মন্তব্যের আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ”একজন বলছেন ‘কালী’ তো গেছে, তার ‘দোয়াত’ আর ‘কলম’ গেল না কেন? কালীর কলম যদি ফিরহাদ হন, তাহলে দোয়াত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশলী অবস্থানের পর অধিবেশনেই শুভেন্দু পাল্টা যুক্তি দেন, তিনি প্রমাণ ছাড়া কিছু করবেন না এবং উপযুক্ত তথ্যের খোঁজ চলছে।

বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল পড়ে গেলেও, সেদিন তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি কালীঘাট শিবিরের কোনো বিধায়ক। অবশেষে মঙ্গলবার কুণাল ঘোষ ফেসবুক পোস্টে লিখলেন, ”গ্রেপ্তারের দাবি আসলে একটি পরীক্ষা ছিল। একটি সই মানেই অপরাধ—এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি এমনভাবে তুলেছিলেন, যাতে মনে হয় সইয়ের পেছনে রহস্য আছে। আমি বলেছিলাম, সই যদি অপরাধের হয়, তবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে গ্রেপ্তার করুন।”

কুণালের দাবি, গ্রেপ্তার না হওয়ার অর্থই হলো—সেই সই কোনো অপরাধমূলক কাজের অংশ ছিল না। তাঁর মতে, বিধানসভায় নথি তোলা ছিল তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল মাত্র। প্রাক্তন মেয়রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কুণাল লেখেন, ”সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি আগের বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি রক্ষণাত্মক। এতেই পরিষ্কার যে আমার বিশ্লেষণ সঠিক ছিল।”

তারাতলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির এই নতুন বিতর্ক এখন চরমে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর এই সোশাল মিডিয়া যুদ্ধ রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।