নবরাত্রিতেই কাটবে বিয়ের বাধা! দেবী দুর্গাকে খুশি করার ৫টি সহজ প্রতিকার, দূর হবে কুন্ডলী দোষ!

নবরাত্রি হলো দেবী দুর্গার সাধনার পবিত্র নয়টি দিন। এই সময় দেবী দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করা হয় এবং ভক্তরা ব্রত পালন করেন। সনাতন হিন্দু ধর্মে, নবরাত্রির সময় বিয়ে, বাগদান, নামকরণ বা গৃহপ্রবেশের মতো কোনও শুভ বা মাঙ্গলিক কাজ করা হয় না, কারণ এই সময়টি একান্তভাবে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য উৎসর্গীকৃত।

তবে, আপনার বিবাহে যদি বারবার বাধা আসে বা বিয়েতে বিলম্ব হয়, তবে এই নয় দিনের পবিত্র সময়ে কিছু বিশেষ প্রতিকার করলে তা অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী হতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই শক্তিশালী প্রতিকারগুলো কী কী।

নবরাত্রিতে বিবাহ যোগ সক্রিয় করার কার্যকরী উপায়
নবরাত্রির সময় ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই সহজ উপায়গুলো অবলম্বন করলে বিবাহে আসা বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়:

১. সিঁদুর ও শৃঙ্গার অর্পণ:

প্রতিদিন স্নান ও ধ্যানের পর দেবী দুর্গাকে সিঁদুর ও শৃঙ্গারের সামগ্রী (যেমন চুড়ি, আলতা, টিপ ইত্যাদি) অর্পণ করুন।

দ্রুত বিয়ের জন্য প্রার্থনা করুন এবং সেই অর্পিত সিঁদুর নিজের কপালে লাগান।

২. লাল বা হলুদ ফুল নিবেদন:

নবরাত্রির সময় প্রতিদিন দেবী দুর্গাকে সাতটি লাল বা হলুদ ফুল অর্পণ করুন।

ফুলগুলি হাতের তালুতে নিয়ে মন থেকে দ্রুত বিয়ের জন্য প্রার্থনা করুন।

৩. সিঁদুর ও সুপারি বাঁধার কৌশল:

একটি হলুদ কাপড়ে সামান্য সিঁদুর এবং কয়েকটি সুপারি একসঙ্গে বেঁধে নিন।

এই পুঁটুলি দেবী দুর্গাকে অর্পণ করুন। বলা হয়, এই উপায়ে বিয়েতে আসা বাধা দূর হয়।

৪. শক্তিশালী মন্ত্র জপ:

ওম শ্রীং বর প্রদায় শ্রী নমঃ: ফুল অর্পণ করার সময় বা হাতের তালুতে ফুল নিয়ে এই মন্ত্রটি জপ করুন।

কাত্যায়নী মন্ত্র: নবরাত্রির সময় “ওম কাত্যায়নী মহামায়ে মহাযোগিন্যধীশ্বরী” মন্ত্র জপ করলে বিশেষ ফল মেলে। আপনি নবরাত্রির সময় অন্তত তিন দিন সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়েও এই মন্ত্র জপ করতে পারেন।

৫. গ্রহের দোষ ও মাঙ্গলিক দোষ নিবারণ:

কুন্ডলী দোষ: বিয়েতে যদি রাহু এবং কেতুর কারণে গ্রহের দোষ আসে, তবে তা দূর করার জন্য নবরাত্রির সময় দুর্গা সপ্তশতী পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।

মাঙ্গলিক দোষ: মাঙ্গলিক দোষের কারণে বিয়েতে বাধা এলে হনুমানজির পূজা করুন। তাঁকে সিঁদুর ও গুড়ের লাড্ডু নিবেদন করলে দোষ কেটে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

নবরাত্রির এই সময়টি বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার চেয়ে, বরং বিয়ের জন্য পূজা ও ব্রত করাকেই শুভ বলে মনে করা হয়। পূর্ণ ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে এই সাধনা আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারে।