“নবম শ্রেণি থেকেই তিন ভাষা!”-CBSE-র নয়া নিয়ম নিয়ে পড়ুয়াদের চিন্তা দূর করল বোর্ড

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়গুলিতে ত্রি-ভাষা নীতি কার্যকর করতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, পড়ুয়াদের দুটি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষা অধ্যয়ন করতে হবে। নীতিটি ঘোষণার পর থেকেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বিধা কাটাতে সম্প্রতি একটি নতুন সার্কুলার জারি করেছে বোর্ড।
মূল উদ্দেশ্য কী? বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নীতির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার বোঝা চাপানো নয়। বরং নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের ভারতীয় ভাষাগুলোর সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত করা এবং সেই ভাষার ওপর দখল আরও মজবুত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কারা পড়ছে ত্রি-ভাষা নীতির আওতায়? সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তারা আগের নিয়মেই দুটি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। নতুন এই নিয়ম মূলত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাদের এখন থেকে তিনটি ভাষা (R1, R2 এবং R3) পড়তে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন: বোর্ড জানিয়েছে, এই তৃতীয় ভাষার জন্য কোনো বোর্ড পরীক্ষা হবে না। মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে স্কুল পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। এমনকি, কোনো শিক্ষার্থী যদি নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষায় অকৃতকার্যও হয়, তবুও সে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে পারবে।
কাদের জন্য ছাড় রয়েছে? বোর্ডের সার্কুলার অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীকে এই নীতি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে:
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী: RPwD Act, ২০১৬ অনুযায়ী স্বীকৃত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা এই নীতির আওতামুক্ত।
বিদেশের স্কুল: ভারতের বাইরে অবস্থিত CBSE স্কুলগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর নয়।
বিদেশ ফেরত পড়ুয়া: যারা বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ভারতে ফিরেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
অভিভাবকের বদলি: অভিভাবকের বদলির কারণে স্কুল পরিবর্তন করতে হলে, শিক্ষার্থী ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে যে তৃতীয় ভাষা বেছে নিয়েছিল, সেটিই নবম শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ পাবে।
এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে পড়ুয়াদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে কোনো সংশয় থাকলে অভিভাবকরা তাদের স্কুলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।