নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কাকে প্রার্থী করবে তৃণমূল? সামনে এল এই নেতার নাম, তুঙ্গে জল্পনা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামে নতুন কৌশল সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে। যদিও রাজীব প্রকাশ্যে এই খবরকে রটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে এই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব থাকায় এবার ‘বাইরের’ কাউকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে দল। এই কারণেই উঠে এসেছে রাজীবের নাম।

পরিচিতি: রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক ছিলেন। নন্দীগ্রাম এই লোকসভার অন্তর্গত হওয়ায় স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে।

সংগঠন: লোকসভা নির্বাচনে তমলুকে তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের প্রচারে রাজীবের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। যদিও দেবাংশু হেরে যান, তবুও দলের একাংশ তার সাংগঠনিক কাজে সন্তুষ্ট।

মমতার বিকল্প: গত বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন। তাই এবার অন্য কোনো শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় তৃণমূল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের ফলাফল অনুযায়ী নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রায় ৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজীবের মতো একজন নতুন মুখের জন্য জয় পাওয়া সহজ হবে না। তবে দল মনে করছে, যদি তিনি লড়াইয়ে ভালো ফল করেন, তবে তাকে পরে ‘সম্মানজনক পুনর্বাসন’ দেওয়া যেতে পারে। বিশ্লেষকরা এটিকে ২০১৪ সালের বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইন্দ্রনীল সেনকে প্রার্থী করার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করছেন। সেবার ইন্দ্রনীল হারলেও পরে তাকে বিধানসভায় জেতানো হয় এবং মন্ত্রীও করা হয়।

উল্লেখ্য, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ভোটে হেরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। এখন তাকে ত্রিপুরার দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টরও করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নন্দীগ্রামের এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।