নজিরবিহীন লড়াই! ৮৫০০ অফিসার ছাড়তে রাজি নবান্ন, আজ শীর্ষ আদালতে কি ফের চমক দেবেন মুখ্যমন্ত্রী?

গত বুধবার দেশের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী ছিল ভারত। নিজের করা SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কোনো আইনজীবী ছাড়াই সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার দুপুর দুটোয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ফের সেই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নের দিকে— আজও কি কালো কোট ছাড়াই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী?
গত শুনানিতে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ করেছিল যে, প্রয়োজনীয় কর্মী না পাওয়ার ফলে নির্বাচনী কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। নবান্ন অবশ্য সেই জট কাটাতে তৎপর। পিটিআই সূত্রের খবর, সোমবারের শুনানির আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্য সরকার ৮ হাজার ৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারকে ছাড়তে প্রস্তুত। এর ফলে কর্মী সংকটের যে অজুহাত কমিশন দিচ্ছিল, তার পালটা জবাব রাজ্য তৈরি রেখেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি লড়াই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে তীব্র তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, “মনে হয় উনি আজ যাচ্ছেন না। গেলেও কানে তুলো দিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে গাড়ি থেকে নামার সময় ‘চোর’ স্লোগান শুনতে না হয়।” পালটা তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করছেন বলেই আজ কমিশন একতরফা রোলার চালাতে পারছে না। এই লড়াই সংবিধান বাঁচানোর লড়াই।
মজার বিষয় হলো, মমতার এই পদক্ষেপ নিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরেই দেখা গিয়েছে ভিন্ন সুর। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, সুজন চক্রবর্তী একে ‘স্রেফ লোকদেখানো’ এবং ‘শুনানি শেষের আগে সস্তা প্রচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সূত্রের খবর, সোমবার সশরীরে সুপ্রিম কোর্টে থাকার সম্ভাবনা কম থাকলেও, ভার্চুয়াল মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুনানিতে যোগ দিয়ে ফের সওয়াল করতে পারেন। শেষ মুহূর্তে তিনি কোনো চমক দেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।