রাজ্য বিধানসভার অন্দরে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বিরোধী দলনেতার মর্যাদা এবং বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত ঘর না পাওয়ার অভিযোগে বিধানসভার লবিতে অবস্থানে বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। ৮০ জন বিধায়ক জয়ী হওয়া সত্ত্বেও, এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন মাত্র ২০ জন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অলিন্দে এখন তুমুল চাঞ্চল্য।
কেন এই অবস্থান?
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার পদ ও বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলের ঘর বরাদ্দ করার বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়কদের একটি দল বিধানসভার লবিতে অবস্থান শুরু করেন। শোভনদেববাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই চিঠি জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনো উত্তর নেই। যদি দ্রুত ঘর না পাওয়া যায়, তবে লবিতেই আমি অফিস খুলে বসব।’’
চিঠিতে সইয়ের গোলযোগ ও অন্দরের সমীকরণ
এই অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। জানা গেছে, বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, বিরোধী দলনেতার পদের দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে মাত্র ৭০ জনের। এমনকি এই কর্মসূচিতেও ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। কেন বাকি ৪৬ জন বিধায়ক অনুপস্থিত এবং ১০ জনের স্বাক্ষর কেন নেই—তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে কি ফাটল ধরছে?
তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘‘দুই বিধায়ক অসুস্থ, তাই সই করতে পারেননি। এছাড়া সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় বহু কর্মী ঘরছাড়া এবং মিথ্যে মামলায় বিধায়কদের আদালতে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে অনেক বিধায়ক বিধানসভায় আসতে পারেননি।’’
অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
বিধানসভা সূত্রে খবর, তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রথম চিঠিতে কিছু ত্রুটি ছিল। বৃহস্পতিবার শোভনদেববাবু সেই চিঠি সংশোধন করে ফের সচিবের কাছে জমা দিয়েছেন। সচিব এই কপি অধ্যক্ষের কাছে পাঠাবেন এবং তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বর্তমানে অধ্যক্ষ বিধানসভায় না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর। ফলে, বিরোধী দলনেতার মর্যাদা ও কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা কবে মিটবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূল বিধায়কদের এই অবস্থান কর্মসূচি আপাতত বিধানসভার অন্দরে এক অস্বস্তিকর আবহের সৃষ্টি করেছে।





