“ধ্বংসের মুখে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু!”-মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

আবারও যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা কেবল সামরিক ঘাঁটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হামলা-পাল্টা হামলার ভয়াবহ চিত্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর শহর সিরিক, বুশেহর ও বান্দার আব্বাসে মার্কিন বিমান হামলার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, একাধিক সেতু, রেললাইন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মৃত্যুও ঘটেছে। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তেহরানও। বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হয়েছে।
ভাঙল ইসলামাবাদ সমঝোতা, অনিশ্চিত হরমুজ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তি ধুলোয় মিশিয়ে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর কোনো সমঝোতায় নেই। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যে কোনো পথ নিতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, ইরান আলোচনা ও শর্তের পথে না ফিরলে তাদের মূল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
কেন আতঙ্কিত বিশ্ববাজার? হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—বিশ্ব বাণিজ্যের এই দুটি রুট এখন চরম অনিশ্চয়তায়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ হয়ে প্রবাহিত হয়। উত্তেজনার পারদ চড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহেই প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩ শতাংশ নেমে যাওয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা গেছে।
মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা: তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন মুদ্রাস্ফীতির বোঝা তৈরি করতে পারে।
সাপ্লাই চেইন সংকট: লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যপথ কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৈশ্বিক সতর্কতা অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের রুট বন্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব যদি দ্রুত এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে না পায়, তবে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার মুখে পড়তে পারে।