‘ধাম’ শব্দ নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত! দিঘার মন্দির থেকে কি মুছে যাচ্ছে ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম?

নীল জলরাশির কোল ঘেঁষে দিঘায় নির্মিত সুউচ্চ জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে ফের মাথাচাড়া দিল তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। এবার সরাসরি মন্দিরের নামকরণের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল ওড়িশার বিজেপি নেতৃত্ব এবং পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সমাজ। দাবি উঠেছে, মন্দিরের নামের শেষে থাকা ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধটি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

কেন এই সংঘাত? বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল, যখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার এই বিশালাকার মন্দিরের উদ্বোধন করেন। মন্দিরটির নাম রাখা হয় ‘জগন্নাথ ধাম, দিঘা’। কিন্তু ওড়িশার বিজেপি সরকার এবং পুরীর রাজপরিবার শুরু থেকেই এই নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাঁদের স্পষ্ট কথা, পৃথিবীতে জগন্নাথ মন্দির হাজারো থাকতে পারে, কিন্তু ‘জগন্নাথ ধাম’ শুধুমাত্র একটিই—তা হলো ওড়িশার পুরী।

মোহন মাঝির চিঠি ও অমিত শাহর ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ধাম’ শব্দটি হিন্দুধর্মের চতুরধামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরিচয়। অন্য কোনো মন্দিরের ক্ষেত্রে এই নাম ব্যবহার করা পুরীর ঐতিহ্যকে ম্লান করার শামিল। ওড়িশা বিজেপির সহ-সভাপতি গোলক মহাপাত্র জানিয়েছেন, বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পরেই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং নামের শেষ থেকে ‘ধাম’ শব্দবন্ধটি ছেঁটে ফেলা হবে।

পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের সঙ্গেই কি ভাগ্য বদলাচ্ছে দিঘার? রাজনৈতিক মহলে সবথেকে চমকপ্রদ খবর হলো, মোহন চরণ মাঝিকেই বাংলার বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক করেছে বিজেপি। অর্থাৎ, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্ধারণে তাঁর বড় ভূমিকা থাকছে। ওড়িশার প্রবীণ বিজেপি নেতাদের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মোহন মাঝি যৌথভাবে উদ্যোগী হয়ে নতুন সরকারকে দিয়ে এই নাম পরিবর্তনের কাজটি সম্পন্ন করাবেন।

সেবায়েতদের কড়া বার্তা পুরীর প্রবীণ সেবায়েত জগন্নাথ সোয়াইন মহাপাত্র বলেন, “আমরা চাই বাংলার নতুন সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিক। জগন্নাথ ধামের গরিমা একটি পর্যটন কেন্দ্রের নামে ব্যবহার করে ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে।”

আগামী ৯ মে বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির পরেই কি তবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ফলক বদলানো হবে? ওড়িশার চাপ এবং বাংলার মানুষের আবেগের মাঝে নতুন সরকার কোন পথে হাঁটে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy