ধানবাদে ইডি-র মেগা স্ট্রাইক! ৫০০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতেই কয়লা মাফিয়াদের অন্দরে চরম ত্রাস

ধানবাদের বেআইনি কয়লা পাচার এবং কালো টাকা কারবারের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ধানবাদের মোট ৩১টি ভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। ইডি-র এই রেকর্ড অভিযানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা এ যাবৎকালের কয়লা পাচার মামলায় সবচেয়ে বড় তল্লাশি অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআর ও চার্জশিটের ভিত্তিতে পিএমএলএ (PMLA) আইনের আওতায় এই তদন্ত শুরু হয়। অনিল গোয়েল, এলবি সিং, হরেন্দ্র চৌহান এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গণেশ যাদব, পাপ্পু মণ্ডল, রোহিত যাদব ও মাধো সিংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একাধিক আবাসন ও বাণিজ্যিক সংস্থায় এই ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও পাচার করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা অর্জন করেছিল। সেই অবৈধ অর্থ বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরিয়ে সাদা করার পর বিশাল অঙ্কের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন এক অভিযুক্তের প্রায় ১৬০ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ সরাসরি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। পাশাপাশি তল্লাশিতে নগদ ১.০২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০০টিরও বেশি সন্দেহভাজন স্থাবর সম্পত্তির দলিল, অসংখ্য ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের খাতা সহ প্রচুর incriminating নথি উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। সবমিলিয়ে এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা মোট সম্পত্তির পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও অনিল গোয়েল ও এলবি সিংয়ের ডেরায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই বিশাল কয়লা কেলেঙ্কারির শিকড় ঠিক কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে।