ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা কি মোদি সরকারের বড় রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক? অমিত শাহের পোস্টে মিলল বড় ইঙ্গিত!

দেশজুড়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা এবং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। অবশেষে ছাত্র সমাজের দাবির মুখে এই হাই-প্রোফাইল ইস্তফার পর মুখ খুললেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার গভীর রাতে নিজের সরকারি ‘এক্স’ (অধুনা টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি সুদীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে এই পদত্যাগের নেপথ্য কারণ এবং সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।

অমিত শাহ তাঁর অফিসিয়াল পোস্টে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কাছে দলীয় বা প্রশাসনিক যে কোনও পদের চেয়ে দেশের সার্বিক স্বার্থ, দেশের তরুণ সমাজ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সর্বদা অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ মূলত শাসক দলের সেই নীতি ও আদর্শেরই এক নিখাদ ও সাহসী প্রতিফলন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর আবেগ ও ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে সর্বদা প্রস্তুত এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিশাপ চিরতরে রোধ করতে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো কঠোর সংস্কার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

একইসঙ্গে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে সমস্ত সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, সরকারের এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত নিট (NEET)-এর যোগ্য এবং সফল পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের মাঝেও বিগত দিনে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিভিন্ন অবদান এবং কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে ভোলেননি অমিত শাহ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিজের দীর্ঘ কার্যকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র সফল ও কার্যকর বাস্তবায়ন, মাতৃভাষায় সর্বভারতীয় পরীক্ষা আয়োজনের যুগান্তকারী ব্যবস্থা, পিএম শ্রী (PM SHRI) স্কুলগুলির পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, ডিজিটাল শিক্ষার আধুনিক প্রসার, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প জগতের সঙ্গে অ্যাকাডেমিয়ার সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং সুদূরপ্রসারী সংস্কার সাধন করে গিয়েছেন। তাঁর এই পুরো কার্যকালই ভারতকে আগামী দিনে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জাতীয় সংকল্পের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ নিষ্ঠার অনন্য প্রমাণ বহন করে।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিগত সপ্তাহজুড়ে দেশজুড়ে এক প্রকার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নেয় প্রশাসন এবং পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর এই হাই-প্রোফাইল ইস্তফার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় প্রহল্লাদ যোশীর কাঁধে। বর্তমান উপভোক্তা ও গণবণ্টন মন্ত্রকের পাশাপাশি এখন থেকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও একযোগে সামলাবেন। কর্তব্যবোধকে সর্বাগ্রে রেখে অত্যন্ত বিনম্রতার সঙ্গেই তিনি এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান নতুন শিক্ষামন্ত্রী।