দেশ ছেড়ে এসেও শান্তি নেই, নেপালের অশান্তিতে সোনাগাছিতে মন খারাপের সুর

পেশার টানে দেশ ছেড়ে এসেও শান্তি নেই। নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণঅভ্যুত্থানের খবরে কলকাতার যৌনপল্লিগুলোতে বসবাসকারী নেপালি যৌনকর্মীরা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভুগছেন। তাঁদের মন পড়ে আছে নিজেদের দেশে থাকা পরিবারের কাছে।
‘চিন্তায় ঘুম উড়েছে’
সোনাগাছি, খিদিরপুর, কালীঘাটসহ কলকাতার ১২টি যৌনপল্লিতে প্রায় ৫০-৬০ জন নেপালি কর্মী কাজ করেন। তাঁদের অনেকেই পুজোর আগে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত। নেপালি যৌনকর্মীরা প্রতিদিন নিজেদের দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভিডিও কল, ফোন কলে তাঁরা প্রতি মুহূর্তের খবর নিচ্ছেন।
পোখরার এক বাসিন্দা জানান, “চিন্তা তো হচ্ছেই। যেভাবে এতজনকে খুন করা হয়েছে, তা কখনওই ঠিক নয়। আমাদের পরিবারের লোকজন যাতে ভালো থাকে, তার জন্যই এখানে রয়েছি। নিজেদের পরিবার আক্রান্ত হলে চিন্তা তো থাকবেই।”
আশাবাদী হলেও অনিশ্চয়তা
কাঠমাণ্ডুর পার্শ্ববর্তী হেতায়ুদা এলাকার আরেক যৌনকর্মী বলেন, “পুজোতে বাড়ি ফেরার ইচ্ছে ছিল। এখন কী হবে জানি না। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। গাড়ি বন্ধ রয়েছে শুনছি। কবে ফিরতে পারব জানি না।”
নেপালের দিপায়ালের এক বাসিন্দা, যিনি ২৭ বছর ধরে কলকাতায় আছেন, তাঁর মেয়ে কাঠমাণ্ডু সংলগ্ন এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রীদের সঙ্গেও এই ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ কী করবে! শান্তি ফিরুক, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।”
সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘আমরা পদাতিক’-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় জানান, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে সেখানকার যৌনকর্মীরা নিয়মিত খবর দেখছেন এবং পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। তাঁরাও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রার্থনা করছেন। তাঁদের একমাত্র আর্তি, ‘বুদ্ধের দেশে শান্তি ফিরুক’।