দৃষ্টিহীনতার বাধা পেরিয়ে, সানিয়ার দাবার চাল, জাতীয় স্তরে বাজিমাত, নজর প্যারা অলিম্পিকে

‘মনের ইচ্ছা শক্তিই সব থেকে বড় জিনিস’ – এই প্রবাদবাক্যকে সত্যি প্রমাণ করে দেখালো পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার নিঘা গ্রামের এক বিস্ময় বালিকা, সানিয়া খাতুন। জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন হয়েও দাবার বোর্ডে তার মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে বাজিমাত করে সে জাতীয় স্তরে প্রথম দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। সানিয়ার এই সাফল্য কেবল তার নিজের নয়, বরং দেশের প্রতিটি দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, যারা প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধকতার ঊর্ধ্বে সানিয়ার স্বপ্ন
আসানসোলের জামুড়িয়ার নিঘা গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম সানিয়ার। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা, দুই দিদি এবং দাদাকে নিয়ে কোনো রকমে চলে তাদের সংসার। জন্ম থেকেই চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে সানিয়াকে জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে সে আসানসোল ব্রেইল অ্যাকাডেমির অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার, গান, আবৃত্তি – সব কিছুতেই সানিয়া সমানভাবে দক্ষ। কিন্তু বিশেষভাবে সক্ষম এই কিশোরী সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে তার দাবা খেলার নৈপুণ্যে। সানিয়ার এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই সকলেই আনন্দিত এবং গর্বিত।
ত্রিপুরা থেকে বেঙ্গালুরু, এবার লক্ষ্য প্যারা অলিম্পিক
নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ছোট্ট সানিয়া জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট থেকেই তার দাবা খেলা ভালো লাগে। ত্রিপুরায় একটি ইভেন্টে সাফল্যের পর সে হিউম্যান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। কয়েকদিন আগেও কর্ণাটকে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের একটি দাবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সানিয়া প্রথম দশের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সানিয়া জানিয়েছে, তার লক্ষ্য এবার প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। দৃষ্টিহীন হয়েও দাবার জটিল চালে তার এই দক্ষতা এবং জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য জেদ ও মনোবল। সানিয়ার এই পথচলা বহু মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং দেখিয়ে দেবে, মনের জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।